ছবি: সংগৃহীত
মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা অঞ্চলে লক্ষাধিক শ্রমিক পরিবারের একমাত্র ভরসা ক্যামেলিয়া হাসপাতাল গত এক মাস ধরে বন্ধ থাকায় চরম স্বাস্থ্য সংকট তৈরি হয়েছে। চিকিৎসা না পেয়ে প্রাথমিকভাবে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৭ মার্চ শমশেরনগর চা-বাগানের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ঐশী রবিদাস চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ চা শ্রমিকরা হাসপাতালের স্টাফদের অবরুদ্ধ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে চিকিৎসক ও নার্সদের নিরাপত্তাজনিত কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।
হাসপাতাল বন্ধ হওয়ার পর থেকে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার প্রায় ৩৫টি চা-বাগানের লক্ষাধিক মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে জানান স্থানীয়রা। তাদের দাবি, গত এক মাসে স্ট্রোকসহ বিভিন্ন কারণে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা পেলে বেঁচে যেতে পারতেন।
২৫ এপ্রিল শমশেরনগর চা-বাগানের রবি চাষা স্ট্রোকে মারা যান। একই সময়ে অনিল রেলি, মাধুরি শাহা, লক্ষ্মী শাহা, জুগল মির্ধা, বাসন্তী রবিদাসসহ আরও কয়েকজনের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
চা শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন বলেন, ‘হাসপাতাল বন্ধ থাকায় লক্ষাধিক মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত। টাকার অভাবে অনেকেই বাইরে চিকিৎসা নিতে পারছেন না। হাসপাতাল চালু থাকলে অনেক জীবন বাঁচানো যেত।’
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ক্যামেলিয়া হাসপাতালটি ইংল্যান্ডভিত্তিক ক্যামেলিয়া ফাউন্ডেশন পরিচালনা করে এবং তাদের সিদ্ধান্তেই বর্তমানে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
শমশেরনগর চা-বাগান ব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামান বলেন, হাসপাতালটি দ্রুত চালু হওয়া প্রয়োজন। পুরো বিষয়টি বিদেশি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
এদিকে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, হাসপাতাল চালুর বিষয়ে ফাউন্ডেশন থেকে চিঠি আসার অপেক্ষা করা হচ্ছে এবং স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছে।
প্রসঙ্গত, ২৭ মার্চ ঐশী রবিদাসের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল ভাঙচুরের ঘটনার পর থেকেই ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালটি বন্ধ রয়েছে।