ছবি: সংগৃহীত
কালবৈশাখী ঝড় ও টানা ভারী বর্ষণে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত চার দিন ধরে উপজেলার অধিকাংশ এলাকা বিদ্যুৎহীন থাকায় কয়েক লাখ মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্র ও পল্লী বিদ্যুৎ অফিস জানায়, গত শনিবার থেকে ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে এবং অসংখ্য গাছ সঞ্চালন লাইনের ওপর ভেঙে পড়ে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঝড়ের তাণ্ডবে শতশত গাছ উপড়ে পড়ার পাশাপাশি শতাধিক স্থানে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে গেছে এবং ৫০ থেকে ৬০টি বিদ্যুৎ মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ১০ থেকে ১২টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ায় অনেক এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা গেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
টানা পাঁচ দিন বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অনেকের ফ্রিজে সংরক্ষিত খাদ্য নষ্ট হয়ে গেছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হওয়ায় স্থানীয়রা কার্যত বাইরের দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।
বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় অর্থনীতিতেও। হাট-বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কম্পিউটার দোকান, ফটোকপি সেন্টার এবং অনলাইনভিত্তিক কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রমেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝড়ের পর থেকে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। গ্রামাঞ্চল থেকে করা ফোনকল দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা গ্রহণ করেননি বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ ওসমানীনগর জোনাল অফিসের (ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার) ডিজিএম নাইমুল ইসলাম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত মেইন লাইনের ৯০ ভাগ লাইন চালু করা সম্ভব হয়েছে। ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় মেরামত কাজে সময় লাগছে। মাঠ পর্যায়ে কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত লাইনগুলো দ্রুত সংস্কার করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।’
তবে ৪ দিন পার হয়ে গেলেও বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ ফিরে না আসায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।