প্রকাশিত : ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ২২:৫৪ (বুধবার)
প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষার প্রস্তাব ডিসিদের

ছবি: সংগৃহীত

দরিদ্র পরিবারের সব প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষা অবৈতনিক করার প্রস্তাবসহ শিক্ষা খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছেন জেলা প্রশাসকেরা (ডিসিরা)। সব শিশুর শিখন নিশ্চিত করতে একীভূত শিক্ষাক্রম ও মূল্যায়নব্যবস্থা চালুরও প্রস্তাব এসেছে তাঁদের পক্ষ থেকে।

আগামী ৩ মে থেকে ৬ মে পর্যন্ত চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলন উপলক্ষে বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিরা সারা দেশ থেকে মোট ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন। এর মধ্যে বাছাই করে ৪৯৮টি প্রস্তাব আলোচনার জন্য নির্ধারণ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এসব প্রস্তাব নিয়ে সম্মেলনে আলোচনা শেষে সরকারের নীতিনির্ধারকেরা প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে মন্ত্রী ও সচিবদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। মাঠপর্যায়ে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে ডিসিরা নীতিনির্ধারণ, উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সমন্বয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তাই তাঁদের প্রস্তাবগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর এটি প্রথম ডিসি সম্মেলন। এ কারণে এবারের সম্মেলনকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের দিকনির্দেশনাও এ সম্মেলন থেকে আসতে পারে।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পুরো চার দিনের আয়োজনও সেখানে অনুষ্ঠিত হবে। সাধারণত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হলেও এবার পুরো কার্যক্রম একক ভেন্যুতে আয়োজন করা হচ্ছে।

নিয়মানুযায়ী উদ্বোধনের পর মন্ত্রণালয় ও বিভাগভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। সেই অনুযায়ী প্রস্তাবগুলো সাজানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, ভর্তি ও নিয়োগ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের ঘটনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারেন—এমন আইন পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। পাশাপাশি কওমি মাদ্রাসা স্থাপনে নীতিমালা প্রণয়ন নিয়েও সুপারিশ করা হয়েছে।

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষায় পাঠদানের জন্য সংশ্লিষ্ট ভাষার দক্ষ শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাবও দিয়েছেন ডিসিরা। বর্তমানে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা (ককবরক), গারো ও ওঁরাও (সাদরি) ভাষায় শিক্ষাদান চালু থাকলেও পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় কার্যকর পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া ফরিদপুরে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনসহ শিক্ষা খাতে আরও একাধিক প্রস্তাব দিয়েছেন জেলা প্রশাসকেরা।