প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:৩২ (বুধবার)
‘আত্মঘাতী পুঁজিবাদ বিশ্বকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে’: কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট

ছবি: সংগৃহীত

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় ৫৭টি দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো বলেছেন, “বর্তমান বিশ্বের পুঁজিবাদী মডেল ‘আত্মঘাতী’ হয়ে উঠেছে এবং এটি মানবজাতিকে যুদ্ধ, ফ্যাসিবাদ ও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।”

কলম্বিয়ার উপকূলীয় শহর সান্তা মার্তায় জীবাশ্ম জ্বালানি ত্যাগ নিয়ে আয়োজিত সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে পেত্রো বলেন, ‘সবুজ জ্বালানিতে রূপান্তর বাধাগ্রস্ত করতে জীবাশ্ম জ্বালানি-নির্ভর শক্তিগুলো মরিয়া হয়ে উঠেছে।’

তিনি বলেন, ‘জীবাশ্ম জ্বালানি এমন এক প্রাচীন জ্বালানি ব্যবস্থা, যা মৃত্যু ডেকে আনে। এর সঙ্গে ক্ষমতা ও অর্থনীতির গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। পুঁজিবাদের এই রূপ শুধু আত্মঘাতীই নয়, এটি মানবজাতি ও অন্যান্য প্রাণের অস্তিত্বকেও হুমকির মুখে ফেলতে পারে।’

পেত্রো প্রশ্ন তোলেন, পুঁজিবাদ আদৌ জীবাশ্ম জ্বালানিবিহীন নতুন অর্থনৈতিক মডেলের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবে কি না।

সাবেক অর্থনীতিবিদ ও গেরিলা যোদ্ধা গুস্তাভো পেত্রো ২০২২ সালে কলম্বিয়ার প্রথম বামপন্থি প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী টানা দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ না থাকায় আগামী মাসে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দেবেন দেশটির নাগরিকরা।

বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পেত্রো বলেন, ‘আমরা বর্বরতার দিকে এগোচ্ছি, আর এই বর্বরতাই ফ্যাসিবাদের পূর্বাভাস।’

দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে সরকারপ্রধান ও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বেরিয়ে আসার কৌশল নিয়ে আলোচনা করছেন। এর আগে চার দিন ধরে নাগরিক সমাজ ও শিক্ষাবিদদের নিয়ে বিভিন্ন কর্মশালাও অনুষ্ঠিত হয়।

ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশ জীবাশ্ম জ্বালানি ত্যাগের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে। কলম্বিয়া সম্প্রতি তাদের খসড়া পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে ফ্রান্স প্রথম উন্নত দেশ হিসেবে জাতীয় রোডম্যাপ উন্মোচন করে জানিয়েছে, ২০২৭ সালের মধ্যে কয়লার ব্যবহার, ২০৪৫ সালের মধ্যে তেলের ওপর নির্ভরতা এবং ২০৫০ সালের মধ্যে জীবাশ্ম গ্যাস পুরোপুরি বন্ধ করা হবে।

ফ্রান্সের জলবায়ু দূত বেনোয়া ফারাকো বলেন, প্যারিস চুক্তির লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এ পরিকল্পনা আরও উচ্চাভিলাষী। তিনি জানান, ফ্রান্স নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে ইউরোপে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ রপ্তানিকারক হতে চায়।

সম্মেলনে অংশ নেওয়া উন্নয়নশীল দেশ ও অর্থনীতিবিদরা মত দেন, ঋণ সংকট সমাধান ছাড়া জলবায়ু লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। ‘ফসিল ফুয়েল ট্রিটি ইনিশিয়েটিভ’-এর প্রতিষ্ঠাতা জেপোরা বারম্যান বলেন, ঋণের চাপ সামাল দিতেই অনেক উন্নয়নশীল দেশ বাধ্য হয়ে জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদন বাড়াচ্ছে।

কলম্বিয়ার সাবেক পরিবেশমন্ত্রী সুসানা মুহম্মদ বলেন, ঋণের সুদ পরিশোধে হিমশিম খাওয়া দেশগুলোর জন্য জীবাশ্ম জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ করা বাস্তবসম্মত নয়, কারণ এতে ওষুধ ও সারসহ প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি ব্যাহত হতে পারে।

সম্মেলনে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অনুন্নত দেশগুলোর ঋণ মওকুফের দাবি জানান। যদিও বড় অঙ্কের সরাসরি অর্থ সহায়তার ঘোষণা আসার সম্ভাবনা কম, তবুও জীবাশ্ম জ্বালানিতে বছরে প্রায় ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের ভর্তুকি পরিবেশবান্ধব খাতে স্থানান্তরের বিষয়ে নতুন অর্থনৈতিক সংস্কারের আলোচনা গুরুত্ব পাচ্ছে।