প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ২২:০৬ (বৃহস্পতিবার)
ছাতকে ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেল বোরো ধান

ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে বোরো ধান। পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারি বৃষ্টির কারণে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পেয়ে কাঁচা ও আধাপাকা ধান পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় ২১ গ্রামের কয়েক হাজার কৃষক মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে ছাতকে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ২৭টি পিআইসির মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে গুরুত্বপূর্ণ চরমহল্লা হাওড়ের বাড়ুকা বিল, বাগেছড়া বিল, গোজাগাট্টি বিল, বুড়াইর গিরি ও ঝাওয়া বিলসহ কয়েকটি এলাকা প্রকল্পের আওতার বাইরে ছিল।

সরকারি সহায়তা না পেয়ে স্থানীয় কৃষকরা একাধিকবার প্রশাসনের কাছে আবেদন করেও সাড়া পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।

কৃষকদের দাবি, ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর ছাতকের তৎকালীন ইউএনও এবং ২০২৬ সালের ২৩ জানুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। চলতি বছরেও আবেদন জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

পরে সরকারি বরাদ্দ না পেয়ে কৃষকরা নিজেদের অর্থ ও স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণ করেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও সরকারি তদারকি না থাকায় সম্প্রতি পাহাড়ি ঢলে বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। একপর্যায়ে প্রবল স্রোতে হাওড়ে পানি ঢুকে বিস্তীর্ণ ফসলি জমির ধান তলিয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, প্রশাসন সময়মতো উদ্যোগ নিলে এমন বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হতো।

ছাতক পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী সৈয়দুজ্জামান নাহিদ বলেন, `পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাভুক্ত নয় এমন হাওড়ের বাঁধের কাজ পিআইসির মাধ্যমে করা হয় না। এসব এলাকায় সাধারণত কৃষকেরাই নিজ উদ্যোগে বাঁধ নির্মাণ করেন। তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজন বিবেচনায় এসব হাওড়কে প্রকল্পের আওতায় আনার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।'

হাওড় ও নদী রক্ষা আন্দোলনের নেতারা অভিযোগ করেন, অনেক পিআইসিতে অপরিকল্পিতভাবে কাজ হওয়ায় ভাঙন ঠেকানো সম্ভব হয়নি। চরমহল্লা ও বাগেছড়া হাওড় প্রকল্পের আওতায় থাকলে এ ক্ষতি কমানো যেত।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নাছির উদ্দিন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন জানান, অন্তত ১৫ থেকে ২১ গ্রামের কৃষক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন জানান, বাগেছড়া হাওড়ের অন্তত ৩৭ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ডিপ্লোম্যাসি চাকমা বলেন, `নির্ধারিত সময়ে আবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেত। ভবিষ্যতে হাওড়টিকে পিআইসির আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে।'