প্রকাশিত : ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:১৩ (বৃহস্পতিবার)
বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, নতুন চ্যালেঞ্জে বিএনপি

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৭ বছর পর বড় ব্যবধানে ক্ষমতায় আসার পর দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে বিএনপি সরকার। প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার পরিচালনার সমালোচনা এড়াতে এবং গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে চলতি বছরের শেষ দিকে ধাপে ধাপে উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা এবং বর্ষা মৌসুমের প্রতিকূলতা বিবেচনায় নিয়ে নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রাথমিক রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে।

বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষা চলমান রয়েছে। এছাড়া জুন-জুলাই মাসে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় এ সময় ভোট আয়োজন সম্ভব নয় বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমও নির্বাচন আয়োজনের জন্য অনুকূল নয়। সবদিক বিবেচনায় বছরের শেষ ভাগে ভোট আয়োজনের দিকে এগোচ্ছে সরকার।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১২টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এবং সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এরই মধ্যে জাতীয় সংসদে ‘স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) সংশোধন বিল-২০২৬’ পাস হয়েছে। নতুন এ আইনের ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার বাতিল করা হয়েছে। ফলে রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা দলীয় প্রতীকের বদলে স্বতন্ত্র প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এই মুহূর্তে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু ভাবছে না।’

তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে দলীয় প্রতীক না থাকায় বিএনপির জন্য একক প্রার্থী নির্ধারণ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা না হলেও ইতোমধ্যে অনেক নেতাকর্মী নিজ নিজ এলাকায় ব্যানার-ফেস্টুন টানিয়ে প্রার্থিতার জানান দিচ্ছেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায় থেকেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা কেন্দ্রে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

দলটির নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা এবং নেতাকর্মীদের নানা ধরনের চাপ-নির্যাতনের অভিজ্ঞতার কারণে প্রার্থী বাছাইয়ে অতিরিক্ত কঠোর হওয়াও সহজ হবে না।

এ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই শুরু করেছে বিএনপি। একই সঙ্গে সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল বলেন, ‘নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা এখনও আসেনি। তবে মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীরা সক্রিয় রয়েছেন এবং অনেকেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।’

তিনি আশা প্রকাশ করেন, কেন্দ্র থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, সম্ভাব্য প্রার্থীরা তা মেনে নেবেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, ‘একাধিক প্রার্থী হলে নিজেদের অবস্থান দুর্বল হবে এবং প্রতিপক্ষ এর সুযোগ নেবে। তাই যেকোনো মূল্যে একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে হবে।’

বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, ‘আমরা ভোটারবিহীন নির্বাচনের পক্ষে নই। নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিশ্চিত করতেই দলীয় প্রতীক বাতিল করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে আন্তরিক। এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষা ও বর্ষা মৌসুম শেষে বছরের শেষ দিকে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

এদিকে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ঘিরেও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তুঙ্গে। ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান প্রশাসক আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল এবং ইশরাক হোসেন।

অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটিতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল এবং যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন হাসান।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার চারটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনে। সে সময় ১২টি সিটি কর্পোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৬১টি জেলা পরিষদ এবং ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ ভেঙে প্রশাসকের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করা হয়।

পরবর্তীতে ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং ক্ষমতায় এসে দেশের ১২টি সিটি কর্পোরেশন ও ৫৪টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেয়। এখন নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের হাতে স্থানীয় সরকার ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।