ছবি: থালাপতি বিজয়
দক্ষিণী সুপারস্টার থালাপতি বিজয় রাজনীতিতে নাম লেখানোর পর থেকেই তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজনীতিতে যোগদানের ঘোষণা দেওয়ার পর ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে তার দল তামিলাগা ভেট্টরি কাজাগাম (টিভিকে) কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় প্রকাশিত বুথফেরত জরিপে সেই প্রশ্নের আংশিক উত্তর মিলেছে। আগামী ৪ মে তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে। ২৩৪ আসনের এ নির্বাচনে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন।
বুথফেরত জরিপ বলছে, বিজয়ের দল সরাসরি সরকার গঠনের মতো অবস্থানে না থাকলেও রাজ্যের দীর্ঘদিনের দ্বিমুখী রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘কিংমেকার’ বা নির্ণায়ক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।
বিভিন্ন সংস্থার জরিপের গড় বা ‘পোল অব পোলস’ অনুযায়ী, টিভিকে ১৩ থেকে ১৯টি আসন পেতে পারে। তবে কিছু জরিপে দলটির আরও ভালো ফলের আভাস দেওয়া হয়েছে।
পিপল ইনসাইটের জরিপে টিভিকেকে ৩০-৪০টি আসন দেওয়া হয়েছে। রিপাবলিক-পি মার্কের হিসেবে দলটি পেতে পারে ১৬-২৬টি আসন। এনডিটিভি-পিপলস পালসের জরিপে ১৮-২৪টি আসনের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে ইন্ডিয়া টুডে-অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার জরিপে টিভিকের জন্য আরও বড় চমকের ইঙ্গিত দিয়ে ৯৮-১২০টি আসনের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে।
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন ডিএমকে নেতৃত্বাধীন সেক্যুলার প্রোগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স ১৩৭ থেকে ১৫০টি আসন পেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে একাধিক জরিপ।
তবে প্রধান বিরোধী দল এআইএডিএমকে নিয়েও ভিন্নমত রয়েছে। টাইমস নাউ-জেভিসি এবং স্পিক মিডিয়ার জরিপ অনুযায়ী, এডাপ্পাদি কে. পালানিস্বামীর নেতৃত্বাধীন দলটি ১২৪ থেকে ১৪৭টি আসন পেয়ে সরাসরি ক্ষমতায় ফিরতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বিশেষ করে তরুণ ভোটার ও শহরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। টিভিকে মূলত বিরোধী ভোটব্যাংক, বিশেষ করে এআইএডিএমকের ভোটে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান, সুশাসনের প্রতিশ্রুতি এবং তরুণদের ক্ষমতায়নের বার্তা নিয়ে বিজয়ের প্রচারণা তামিলনাড়ুর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মেরুকরণে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
যদিও তামিলনাড়ুর জটিল সামাজিক ও জাতিগত সমীকরণ এবং পুরোনো দলগুলোর শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তির কারণে টিভিকের চূড়ান্ত ফলাফল নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে, তবুও এটা স্পষ্ট—প্রথম নির্বাচনী লড়াইয়েই রাজ্যের রাজনৈতিক বয়ান বদলে দিতে সক্ষম হয়েছেন থালাপতি বিজয়।
এখন দেখার বিষয়, চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয় এই তারকা শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার সিংহাসনের কতটা কাছে যেতে পারেন, নাকি শক্তিশালী বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবেই নিজের অবস্থান গড়ে তুলবেন। সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে ৪ মে প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক ফলাফলে।