প্রকাশিত : ০১ মে, ২০২৬ ১৪:২১ (শুক্রবার)
প্রথম সফরে সিলেটের বড় যে সংকটে নজর প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো সিলেট সফরে আসছেন শনিবার (২ মে)। এই সফরকে ঘিরে ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে তাঁর পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি, যেখানে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে নগরের দীর্ঘদিনের সমস্যা জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়টি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, সকাল ১০টায় তিনি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ পৌঁছাবেন। এরপর সাড়ে ১০টায় হযরত শাহজালাল (র.) মাজার জিয়ারত করবেন। সকাল ১১টায় নগরের চাঁদনীঘাট এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে সিলেট সিটি করপোরেশনের একটি প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন তিনি। পরে বেলা ১২টায় সদর উপজেলার কান্দিগাঁওয়ে বাসিয়া খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

বিকেল ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ উদ্বোধন এবং বিকেল ৫টায় সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় সভায় যোগ দেওয়ার পর সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই সফরের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে সিলেট নগরের জলাবদ্ধতা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ। প্রতি বর্ষায় টানা কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই নগরের বড় অংশ পানির নিচে চলে যাওয়ার পুরোনো চিত্র এবারও উদ্বেগের কারণ হয়ে আছে। বিশেষ করে সুরমা নদী-এর নাব্যতা কমে যাওয়া এবং নগরের ছড়া-খালগুলোর স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

এই প্রেক্ষাপটে সফরকালে প্রধানমন্ত্রী একটি বড় প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে পারেন বলে জানা গেছে, যার লক্ষ্য জলাবদ্ধতা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলা। সিলেট সিটি করপোরেশনের পরিকল্পনায় রয়েছে নদীতে পতিত একাধিক খাল ও ছড়ায় স্লুইসগেট নির্মাণ, নদীর দুই তীর উঁচু করা, বন্যা প্রতিরোধ বাঁধ ও ওয়াকওয়ে তৈরি। প্রাথমিকভাবে কয়েক হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার অর্থায়নে বিদেশি সংস্থার ঋণ ও অনুদানের সম্ভাবনাও রয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, সুরমা নদীর পানি যখন বর্ষায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়, তখন স্লুইসগেট বন্ধ রেখে নগরে পানি ঢোকা প্রতিরোধ করা হবে। পাশাপাশি নদীর তীর উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে নগরবাসীর জন্য আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যও রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সিলেটের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অন্যতম কারণ জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর বার্তা দিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।