প্রকাশিত : ০২ মে, ২০২৬ ১৩:৪৪ (শনিবার)
সিলেট বৈষম্যর শিকার নাকি দায়িত্বপ্রাপ্তদের পারফরমেন্সের সমস্যা: খন্দকার মুক্তাদীর

সিলেটের আকাশে বহুদিন ধরেই একটি বাক্য ভেসে বেড়ায়; ‘সিলেট বৈষম্যের শিকার।’ জনসভা, সুধী সমাবেশ কিংবা রাজনৈতিক আলোচনায় মাইক্রোফোন হাতে নিলেই যেন এই অভিযোগ উচ্চারিত হয় প্রথমে। কিন্তু এবার সেই বহুলচর্চিত বয়ানের বিপরীতে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তুললেন শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।


শনিবার সিলেটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে সুধী সমাবেশে  তিনি বলেন, সিলেটকে ঘিরে বৈষম্যের অভিযোগ নতুন কিছু নয়, তবে এই বক্তব্য তিনি পুরোপুরি সমর্থন করেন না। তাঁর ভাষায়, ‘সিলেটের যে কারো হাতে „মাইক্রোফোন দিলেই প্রথমেই বলা হয়; সিলেট বৈষম্যের শিকার। কিন্তু আমি পুরোপুরি তা মানি না ‘

বক্তব্যের ভেতরে ছিল এক ধরনের রাজনৈতিক খোঁচা, আবার বাস্তবতারও এক নির্মোহ প্রশ্ন। মুক্তাদির স্মরণ করিয়ে দেন, এই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান। দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকেও তিনি নিজ অঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন; এমন ধারণা এখনও প্রচলিত। ‘বলা হয়ে থাকে, অন্য অঞ্চলের বরাদ্দ কেটে এনে সাইফুর রহমান সিলেটের উন্নয়ন করেছেন,’ বলেন তিনি।
এরপরই তিনি তুলনা টানেন পরবর্তী সময়ের সঙ্গে। সিলেট থেকে আরও দুজন মন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন উল্লেখ করে বলেন, ‘বৈষম্যের শিকার না ওই মন্ত্রীদের পারফরমেসেন্সর সমস্যা তা ভাবা দরকার’। তার বক্তব্যের সারমর্ম দাঁড়ায়, সব দায় কেন্দ্রের কাঁধে চাপানোর আগে স্থানীয় নেতৃত্বের কর্মদক্ষতার হিসাবও জরুরি।

মন্ত্রীর এই সংক্ষিপ্ত বক্তব্য যেন দীর্ঘদিনের একটি অভিযোগের ভেতরে নতুন বিতর্কের দরজা খুলে দেয়। সিলেট সত্যিই কি কেন্দ্রীয় বৈষম্যের শিকার, নাকি উন্নয়নের দাবিতে উচ্চকণ্ঠ এই অঞ্চলের নেতৃত্বই প্রত্যাশিত ফল দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে; সেই ভাবনার খোরাক জোগান তিনি।

সিলেটের রাজনীতিতে ‘বৈষম্য’ শব্দটি অনেকটা আবেগের মতো। কিন্তু মুক্তাদিরের বক্তব্যে সেই আবেগের গায়ে যুক্তির হালকা ধাক্কা লেগেছে। এখন দেখার বিষয়, এই প্রশ্নের জবাব রাজনীতির মঞ্চে আসে, নাকি তা কেবল আরেকটি বিতর্ক হিসেবেই ভেসে বেড়ায় নগরীর বাতাসে।