প্রকাশিত : ০২ মে, ২০২৬ ২১:১৬ (শনিবার)
যুক্তরাজ্যে মার্কিন নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে লন্ডনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে দেশটিতে জাতীয় নিরাপত্তা সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়ে ‘গুরুতর’ (সিভিয়ার) পর্যায়ে নেওয়ার পর শুক্রবার (১ মে) এই নির্দেশনা জারি করা হয়।

দূতাবাসের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে থাকা মার্কিন নাগরিকদের জনাকীর্ণ স্থান, স্কুল, গির্জা, পর্যটন এলাকা এবং প্রধান পরিবহন কেন্দ্রগুলোতে চলাচলের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। অপ্রয়োজনে এসব স্থান এড়িয়ে চলার পাশাপাশি নিয়মিত যাতায়াতের পথ ও সময় পরিবর্তনেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে তাদের চলাফেরা সহজে অনুমান করা না যায়।

এছাড়া জনসমক্ষে নিজেদের পরিচয় যতটা সম্ভব গোপন রাখা এবং স্বাভাবিক আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।

যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-ফাইভ জানিয়েছে, যৌথ সন্ত্রাসবাদ বিশ্লেষণ কেন্দ্রের সুপারিশে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় সতর্কতার মাত্রা ‘যথেষ্ট’ থেকে বাড়িয়ে ‘গুরুতর’ করা হয়েছে। এটি দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা স্তর, যার অর্থ আগামী ছয় মাসের মধ্যে সন্ত্রাসী হামলার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, উগ্রপন্থী ও চরম ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাজ্যে হামলার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য সংকটকে কেন্দ্র করে দেশটিতে বসবাসরত ইহুদি, ইসরাইলি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে হামলার আশঙ্কা বেড়েছে।

গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) লন্ডনের গোল্ডার্স গ্রিন এলাকায় দুই ইহুদি ব্যক্তির ওপর ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। তবে এমআই-ফাইভ বলছে, কেবল ওই ঘটনার কারণে নয়, বরং সামগ্রিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ করেই সতর্কতার মাত্রা বাড়ানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহে লন্ডনের ফিঞ্চলে রিফর্ম সিনাগগ, হ্যারোর কেন্টন ইউনাইটেড সিনাগগসহ বিভিন্ন ইহুদি ও আমেরিকান প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে হামলা ও হুমকির ঘটনা ঘটেছে। এর প্রেক্ষিতেই দ্বিতীয়বারের মতো নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করলো মার্কিন দূতাবাস।