প্রকাশিত : ০২ মে, ২০২৬ ২১:৫৩ (রবিবার)
বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে সার সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে ফসল উৎপাদন কমে যাওয়া এবং খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সারের চালান কার্যত বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক কৃষিখাত বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকলে সারের দাম বাড়ার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ফসলের ফলন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরিও বলেন, পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে যাচ্ছে। কারণ কৃষি উৎপাদন নির্ভর করে নির্দিষ্ট রোপণ মৌসুমের ওপর, আর ইতোমধ্যে এশিয়ার কয়েকটি দেশে বীজ বপনের সময়সীমা পেরিয়ে গেছে।

তিনি জানান, সার সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের মতো বড় কৃষি রপ্তানিকারক দেশগুলো গম ও ভুট্টার পরিবর্তে সয়াবিন চাষে ঝুঁকতে পারে, কারণ সয়াবিন তুলনামূলকভাবে বেশি নাইট্রোজেন ধরে রাখতে সক্ষম।

এ ছাড়া অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় কিছু কৃষক জৈব জ্বালানি উৎপাদনের দিকেও ঝুঁকতে পারেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ম্যাক্সিমো তোরিও বলেন, ‘গম ও সয়াবিনের দাম ইতোমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে। বছরের দ্বিতীয়ার্ধে পরিস্থিতি আরও পরিবর্তিত হবে এবং আগামী বছর পণ্যমূল্যে বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি দেখা যেতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা উচ্চ পণ্যমূল্য এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা করছি। কারণ খাদ্যের দামের সঙ্গে কেবল কাঁচামাল নয়, জ্বালানি ব্যয়ও সরাসরি জড়িত।’

এফএওর এই কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, সময় যত গড়াচ্ছে, সংকট তত গভীর হচ্ছে এবং দ্রুত সমাধান না এলে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা বড় হুমকির মুখে পড়তে পারে।