প্রকাশিত : ০৪ মে, ২০২৬ ১৯:২০ (মঙ্গলবার)
জয়ের পথে বিজেপি!

ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর ভোট গণনায় বড় ধরনের রাজনৈতিক পালাবদলের ইঙ্গিত মিলছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস এবার বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে বলে গণনার প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে।

সবশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রধান বিরোধী দল বিজেপি এককভাবে ২০৫ আসনে জয় পেয়ে ২৯৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৪৮ আসনের অনেক ওপরে অবস্থান করছে। অন্যদিকে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা তৃণমূল কংগ্রেস এখন পর্যন্ত ৮২ আসনে জয় পেয়েছে।

এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাবেক ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং বর্তমানে বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী বিজেপির অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে নির্বাচনে নেতৃত্ব দেন।

বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক ভোটার বাদ পড়ার পর আয়োজিত এই প্রথম নির্বাচনেই রাজ্যের শাসকদল বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

বুথফেরত সমীক্ষাগুলো কোনো নির্দিষ্ট দলের নিরঙ্কুশ জয়ের আভাস দিতে না পারলেও ভোট গণনার শুরু থেকেই বিজেপি বড় ব্যবধানে এগিয়ে যায়। ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল ২১৫টি আসন পেয়ে ক্ষমতায় ফিরলেও বিজেপি পেয়েছিল ৭৭টি আসন। এবারের ফলাফলে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বামফ্রন্ট সরকারের পতনের ১৫ বছর পর পশ্চিমবঙ্গ আবারও বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাক্ষী হতে যাচ্ছে। গত নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর পর এবার শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর কেন্দ্রেও সরাসরি লড়াই করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কিছু কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনেরও প্রয়োজন পড়ে। নির্বাচনী প্রচারণায় তৃণমূল জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও বিজেপি উন্নয়ন, মতাদর্শগত পরিবর্তন এবং দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানকে সামনে আনে।

বিজেপি ও তৃণমূলের পাশাপাশি বাম-কংগ্রেস জোট এবং তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের নবগঠিত দলও নির্বাচনে অংশ নেয়, যা বিভিন্ন আসনে ভোটের সমীকরণে প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।