প্রকাশিত : ০৪ মে, ২০২৬ ২০:২৮ (মঙ্গলবার)
হবিগঞ্জের হাওরে বৃষ্টিতে পচছে কাটা ধান, চরম দুর্ভোগে কৃষকরা

ছবি: সংগৃহীত

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বৃষ্টির পানিতে জমিতে কেটে রাখা ধানের স্তূপে পচন ধরেছে। একই সঙ্গে মাড়াই করা ধানও শুকাতে না পারায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। সোমবার সকালে আবারও বৃষ্টি হওয়ায় কৃষকদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর বাঁধ উপচে হবিগঞ্জের বিভিন্ন হাওরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং, লাখাই, নবীগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানির নিচে চলে গেছে। পাশাপাশি জেলার বৃহত্তম গুংগিয়াজুরী হাওরও ডুবে আছে।

জেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ছয়টি উপজেলার প্রায় ৪৫ শতাংশ জমির বোরো ধান বর্তমানে পানির নিচে। প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত এক সপ্তাহে জেলায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

সোমবার (৪ মে) সকালেও মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। বেলা দুইটা পর্যন্ত ২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে নতুন করে ভোগান্তিতে পড়েন কৃষকরা।

বানিয়াচং উপজেলার শতমুখা হাওরে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকেরা কোমরসমান পানিতে নেমে ডুবে থাকা জমি থেকে ধান কেটে উঁচু স্থানে স্তূপ করে রাখছেন। তবে রোদের অভাবে সেই ধান শুকাতে না পেরে পচে যাচ্ছে। ভেজা ধান থেকে দুর্গন্ধ বের হতে দেখা গেছে।

শতমুখা গ্রামের কৃষক আবদুল বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধইরা রোদ দেখি না। একটু রোদ উঠলেই ভাবি বাঁচলাম, কিন্তু আবার কালো মেঘে সব ঢেকে যায়। এখন ধান কাটতেছি, কিন্তু শুকাইতে পারতেছি না।’

একই গ্রামের কৃষক সাদেক মিয়া বলেন, ‘আমরার কষ্টর শেষ নাই। কষ্ট করে ফলন ফলাইছিলাম, এখন চোখের সামনে সব পচন ধরছে।’

আরেক জানান, বৃষ্টিতে ধানের দানা কালচে হয়ে গেছে। এসব ধান বাজারে বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়বে।

কৃষকদের অভিযোগ, শুধু ডুবে থাকা ধান নয়, যেসব ধান কেটে আনা হয়েছে সেগুলোও রক্ষা করা যাচ্ছে না। মাড়াই করা ধান শুকাতে না পারায় তাতেও পচন ধরছে। মাঠে রাখলে পানিতে ডুবে যায়, আর উঁচু স্থানে রাখলেও টানা বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে।

শতমুখা গ্রামের কৃষক বলেন, ‘এবার শুধু বাঁচার জন্য ধান কাটছি। পানি থেকে কিছু ধান উদ্ধার করতে না পারলে ঘরে খাবার থাকবে না।’

হাওরাঞ্চলের কৃষকরা দ্রুত রোদ ওঠার অপেক্ষা করছেন। পাশাপাশি সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।