ছবি: সংগৃহীত
মৌলভীবাজারের হাওরাঞ্চলে অকাল বন্যা ও টানা বৃষ্টিতে কৃষকদের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়া পাকা ধান কাটতে না পারায় এবং কাটা ধান শুকাতে না পারায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা।
সোমবার দুপুরে রোদ উঠতেই হাওরপারের গ্রামগুলোতে কিছুটা প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে। গ্রামীণ সড়ক, খোলা জায়গা, খলা, পলিথিন ও চটের চাটাই- যেখানে সুযোগ মিলেছে, সেখানেই ধান শুকাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন কৃষকেরা। তবে ধান শুকানোর এ তৎপরতার মাঝেও কারও মনে স্বস্তি নেই।
কৃষকদের ভাষ্য, পানিতে তলিয়ে যাওয়া খেত থেকে খুব অল্প পরিমাণ ধান উদ্ধার করা গেছে। তারও বড় অংশ সময়মতো শুকাতে না পারায় নষ্ট হয়েছে। কোথাও ধান পচে গেছে, কোথাও আবার অঙ্কুর গজিয়েছে।
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরপারের অন্তেহরি গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, জুমাপুর সড়ক থেকে অন্তেহরি বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ধান ও খড় শুকানো হচ্ছে। ফাঁকা জায়গা বলতে কিছু নেই- সবখানেই ভেজা ধান ও খড় বিছিয়ে রাখা হয়েছে। কোথাও যন্ত্রে ধান মাড়াই চলছে।
স্থানীয় এক কৃষক বলেন, ‘২২ কিয়ার জমিতে ৪০০ থেকে সাড়ে ৪০০ মণ ধান পাওয়ার কথা ছিল। এখন ১০০ মণও পাব কি না সন্দেহ।’
আরেকজন বলেন, ‘এ সময় খলায় চারপাশে ধানের স্তূপ থাকার কথা। এখন ধানই নেই।’
কৃষকেরা জানান, অনেকেই আগাম ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। শর্ত ছিল ধান দিয়ে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু ফসলহানির কারণে এখন ঋণ শোধ তো দূরের কথা, পরিবারের সারা বছরের খাদ্য জোগাড় নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক সুখেন দাস বলেন, ‘ধান কাটার জন্য শ্রমিক ঠিক করেছিলাম। কিন্তু সেদিন রাতেই কোমরসমান পানি উঠে যায়।’
রনি চক্রবর্তী বলেন, ‘১৫ বছরের মধ্যে এমন ক্ষতি দেখিনি। ঋণের চাপে অনেকের বাড়িঘর বিক্রির অবস্থা হতে পারে।’
আরেক কৃষক সুমন দাস বলেন, ‘এক লাখ টাকা ঋণ আছে। ভেবেছিলাম ২০০ মণ ধান পাব। এখন ধান-খড় সবই গেছে। এখন গরু বাঁচবে, না মানুষ বাঁচবে বুঝতে পারছি না।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজারের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন জানান, জেলার হাওরাঞ্চলে ৩ হাজার ৬৩৮ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে কাউয়াদীঘি হাওরেই প্রায় ৪০০ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘হাওরে পানি সামান্য বাড়ছে। ইতোমধ্যে কৃষকদের এক দফা বড় ক্ষতি হয়ে গেছে।’
হাওরের কৃষকদের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য দ্রুত সরকারি সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ এবং কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচি চালু করা হোক।