ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন এক বিশেষ অভিযানে ভুয়া ইমিগ্রেশন সিল বা ‘ক্যাপ’ তৈরির সঙ্গে জড়িত একটি সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের আটক করেছে।
ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, ৫ মে, কুয়ালালামপুরের তামান কেপং ইন্ডাহ এবং সেলাঙ্গরের আমপাং এলাকার তামান দাংগান এই দুই স্থানে একযোগে পরিচালিত অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। দুপুর ১২টা থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে পুত্রজায়ার ইমিগ্রেশন সদর দপ্তরের গোয়েন্দা ও বিশেষ অপারেশন বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
প্রায় এক মাসের গোয়েন্দা নজরদারির পর পরিচালিত এই অভিযানে ‘পাদি’ ও ‘আমির’ নামে পরিচিত ৫২ বছর বয়সী দুই ইন্দোনেশীয় নাগরিককে একটি বাসা থেকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, তারা মালয়েশিয়ায় অবস্থানের জন্য কোনো বৈধ পাস বা ভ্রমণ নথি বহন করছিলেন না এবং এই সিন্ডিকেটের ‘মূল হোতা’ হিসেবে কাজ করছিলেন।
অভিযানকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ২০টি ভুয়া ইমিগ্রেশন নিরাপত্তা সিল, ১৬টি ইন্দোনেশিয়ান পাসপোর্ট, ৪টি ‘সুরাত পারজালানান লাকসানা পাসপোর’ (ভ্রমণ নথি), ২টি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ, একটি প্রিন্টার ও একটি স্ক্যানার জব্দ করে। এছাড়া সিন্ডিকেটের ব্যবহৃত একটি প্রোটন এক্্রোরা এবং একটি নিসান আলমিরা গাড়িও জব্দ করা হয়েছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, ‘আমির’ নামের অভিযুক্তকে গত বছরের জুন মাসে একই অপরাধে গ্রেপ্তার করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল এবং তাকে জেআইএম-এর কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। তবে তিনি অবৈধ পথে আবার মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিন্ডিকেটটির কার্যক্রম ছিল ভুয়া ‘ইমিগ্রেশন সেবা’ প্রদান করা। তারা বিশেষ করে লেম্বাহ ক্লাং অঞ্চলে বসবাসরত মেয়াদোত্তীর্ণ (ওভারস্টে) ইন্দোনেশীয় নাগরিকদের জন্য ভুয়া প্রবেশ ও প্রস্থান সিল (এন্ডোর্সমেন্ট) সরবরাহ করত।
প্রায় এক বছর ধরে সক্রিয় এই চক্রটি গ্রাহক সংগ্রহে হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম এবং টিকটক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করত। প্রতিটি ভুয়া এন্ডোর্সমেন্টের জন্য তারা ১০০ থেকে ৩৫০ রিঙ্গিত পর্যন্ত অর্থ নিত এবং লেনদেন হতো অনলাইনে।
আটক দুই ব্যক্তিকে ১৯৫৯/৬৩ সালের ইমিগ্রেশন আইনের ধারা ৫৬(১)(ল) অনুযায়ী গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য পুত্রজায়া ইমিগ্রেশন দপ্তরে নেওয়া হয়েছে।