ছবি: সংগৃহীত
সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ডা. ইসমাঈল পাটোয়ারী বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ছাত্র-জনতা যে স্বপ্ন নিয়ে দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করেছিল, ধীরে ধীরে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় আনুগত্যকে প্রাধান্য দিয়ে কর্মকর্তা নিয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করা হচ্ছে।
বুধবার (৬ মে) বিকেলে সিলেটে ‘জুলাই ঐক্য’ আয়োজিত ‘গণরায় বাস্তবায়ন ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নগরীর দরগাগেইটস্থ কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ (কেমুসাস) এর শহীদ সুলেমান হলে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ডা. ইসমাঈল পাটোয়ারী বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা বর্তমান সরকারের উচিত ছিল সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে জুলাই আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়ন করা। কিন্তু সরকার উল্টো পথে হাঁটছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পরিপন্থী নয়, বরং রাষ্ট্রকে আবারও ফ্যাসিবাদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য আসছে। একদিকে প্রধানমন্ত্রী বলছেন বিএনপি জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে, অন্যদিকে সংসদে মন্ত্রীর বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। এতে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।’
তিনি গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া রায়কে সম্মান জানিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। অন্যথায় দেশে আবারও ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার আশঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক জালালাবাদের সম্পাদক মুকতাবিস-উন-নূরের সভাপতিত্বে এবং আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে শিশির মনির বলেন, ‘বিএনপির বড় দুর্বলতা হলো যারা দলটিকে রক্ষা করে, বিএনপি তাদের রক্ষা করতে পারে না। এর ফলে দলটিকে বারবার রাজনৈতিক মূল্য দিতে হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ উপেক্ষা ও গণভোটের রায় বাতিলের সিদ্ধান্ত বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে মন্ত্রীদের এমন বক্তব্য জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।’
শিশির মনির আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পরও যদি ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে পাঁচ বছর পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবার ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা হতে পারে। এর বিরুদ্ধে জনগণ আবারও গণঅভ্যুত্থানে নামতে পারে।’
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কেমুসাস সভাপতি অধ্যক্ষ মাসউদ খান, শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ কবি কালাম আজাদ, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, সিলেট জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, খেলাফত মজলিস নেতা মাওলানা এমরান আলম, মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলী, এনসিপি নেতা নেসারুল হক চৌধুরী এবং শাবিপ্রবির জুলাই যোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন শিশির।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন জুলাই ঐক্য সিলেটের প্রধান সমন্বয়ক ড. নূরুল ইসলাম বাবুল।
শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ার এবং সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী আলিফ নুর।