ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ঘিরে ম্যাচ ফিক্সিং ও দুর্নীতির অভিযোগে ক্রিকেটারসহ অন্তত পাঁচজনকে শাস্তির আওতায় আনতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ করে তাদের সাময়িকভাবে বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি।
বিসিবি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন- চট্টগ্রাম রয়্যালসের ম্যানেজার মোহাম্মদ লাবলুর রহমান, নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সহ-স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ তাওহিদুল হক তাওহিদ, ঘরোয়া ক্রিকেটার অমিত মজুমদার, টিম ম্যানেজার রেজওয়ান কবির সিদ্দিক এবং ক্রিকেট সংগঠক সামিনুর রহমান।
বিসিবির ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বিপিএলে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের সাময়িকভাবে সব ধরনের ক্রিকেট কার্যক্রম থেকে স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগের জবাব দিতে নোটিশ পাওয়ার পর থেকে ১৪ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।
বোর্ড আরও জানিয়েছে, তদন্তাধীন বিষয় হওয়ায় আপাতত এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করা হবে না।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ইন্টেগ্রিটি ইউনিট (বিসিবিআইইউ) পরিচালিত তদন্তে উঠে এসেছে দুর্নীতিমূলক আচরণ, জুয়া কার্যক্রম, তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং তদন্তে বাধা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ।
তদন্তে কথিত জুয়া সংক্রান্ত কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা, দুর্নীতিমূলক প্রস্তাব, নীতিমালার ৪.৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জারি করা ডিমান্ড নোটিশ অমান্য, গোপন যোগাযোগ মুছে ফেলা এবং মনোনীত দুর্নীতি দমন কর্মকর্তাকে (ড্যাকো) সহায়তা না করার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের বিপিএল চলাকালেই প্রথম ফিক্সিংয়ের অভিযোগ সামনে আসে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তৎকালীন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করেন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর কমিটি প্রায় ৯০০ পৃষ্ঠার একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে সেটি বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শালের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
যাচাই-বাছাই শেষে কয়েকজন ক্রিকেটার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে বিসিবি।
মিরপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি তামিম বলেন, `পাঁচজনকে এই অপরাধে চিহ্নিত করা হয়েছে। তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। তারা বড় ধরনের শাস্তির মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন।'
ক্রিকেট অঙ্গনে এই ঘটনায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বিপিএলের স্বচ্ছতা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে।