প্রকাশিত : ০৭ মে, ২০২৬ ২০:১১ (শুক্রবার)
সিলেটে শ্রমিক সংঘ’র্ষে আরও এক শ্রমিকের মৃ/ত্যু, মামলায় ২৯ জনের নাম

ছবি: কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, সিলেট।

সিলেট নগরীর কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় পরিবহন শ্রমিকদের দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় দেলওয়ার হোসেন নামে আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এর আগে, একই ঘটনায় গুরুতর আহত শ্রমিক রিপন আহমদ গত শনিবার (২ মে) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ নিয়ে সংঘর্ষে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল দুইজনে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৬ মে) নিহত দেলওয়ারের বাবা গোলাপগঞ্জ উপজেলার রণকেলী উত্তর গ্রামের ছাবলু মিয়া বাদী হয়ে দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় শ্রমিক নেতা মইনুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৬০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

মামলায় ভাঙচুর, মারপিট ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ সুরমা থানাসূত্র। এর আগে নিহত শ্রমিক রিপন আহমদের বাবাও দক্ষিণ সুরমা থানায় পৃথক মামলা দায়ের করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৭ এপ্রিল সিলেট-জগন্নাথপুর রুটে আহ্বায়ক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এ সময় উত্তেজিত শ্রমিকরা কয়েকটি বাস ও টিকিট কাউন্টারে ভাঙচুর চালায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্তত চারজন শ্রমিক আহত হন।

দিনব্যাপী সংঘর্ষের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমদিকে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। পরে বিকেল ৪টার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হস্তক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।

দক্ষিণ সুরমা থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফুজ্জামান জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার মারা যান সিলেট জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত সিলেট-জকিগঞ্জ মিনিবাস শ্রমিক উপ-কমিটির সদস্য দেলওয়ার হোসেন।

ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ নজরদারি জোরদার করেছে।