ছবি: সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের ছাতক-শান্তিগঞ্জ-জগন্নাথপুর আঞ্চলিক সড়কে সংঘটিত ভয়াবহ সড়ক ডাকাতির ঘটনার রহস্য মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ডাকাত দলের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে লুণ্ঠিত অর্থের একটি অংশ, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত রামদা, তলোয়ার ও মুখোশওয়ালা হুডি জ্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৮ মে) সকালে গ্রেফতারকৃতদের ছাতক থানা থেকে সুনামগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, গত ৬ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভাতগাঁও ইউনিয়নের শক্তিয়ারগাঁও দারাখাই কুন্দানালা ব্রিজসংলগ্ন আঞ্চলিক সড়কে জগন্নাথপুরগামী সিলেট মেট্রো-ন-১১-১১৬০ নম্বরের একটি পিকআপ আটকে দেয় ৮ থেকে ১০ সদস্যের সংঘবদ্ধ ডাকাতদল।
ডাকাতরা পিকআপের কর্মচারী স্বপন দাস, চালক স্বদেব দাস ও যাত্রী প্রান্ত দাসকে মারধর করে। পরে স্বপন দাসের গলায় ঝোলানো ব্যাগ থেকে ২ লাখ ৬ হাজার টাকা লুট করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরদিন ৭ মে জগন্নাথপুর উপজেলার ইকড়ছই গ্রামের ব্যবসায়ী মতিউর রহমান ছাতক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে ডাকাতির মামলা রুজু করা হয়। মামলার তদন্তভার পান এসআই শেখ মিরাজ আহম্মেদ।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে ছাতক থানার ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, জাউয়াবাজার তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল কবির এবং পুলিশের একটি দল রাতভর অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে গ্রেফতার করা হয় জগন্নাথপুরের মজিদপুর এলাকার আজির উদ্দিন (৩৩) ও শান্তিগঞ্জের ইশাকপুর এলাকার হোসাইন আহম্মদকে (২২)।
পুলিশ জানায়, হোসাইন আহম্মদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ডাকাতির সময় ব্যবহৃত একটি রামদা এবং লুণ্ঠিত টাকার মধ্যে ২৯ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া পলাতক আসামি লায়েক মিয়ার বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় ২৩ দশমিক ৬ ইঞ্চি লম্বা একটি তলোয়ার ও কালো-লাল রঙের মুখোশওয়ালা হুডি জ্যাকেট।
উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে- একটি মুখোশওয়ালা হুডি জ্যাকেট, কাঠের হাতলযুক্ত তলোয়ার, ২৪ ইঞ্চি রামদা এবং নগদ ২৯ হাজার ৫০০ টাকা।
ছাতক-দোয়ারাবাজার সার্কেলের সিনিয়র এএসপি মুরছালিন বলেন, “ডাকাতির ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন করে দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খুব দ্রুতই পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ একটি চক্র এ সড়কে রাতের বেলা আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল। পুলিশের দ্রুত অভিযানে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।
ভুক্তভোগী স্বপন দাস বলেন, ‘মারধর করে ব্যাগ থেকে সব টাকা নিয়ে যায়। আমরা ভেবেছিলাম আর বাঁচবো না। পুলিশ এত দ্রুত ডাকাত ধরেছে, এটা আমাদের জন্য বড় স্বস্তি।’
পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের ধরতে বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা ও সম্ভাব্য পালানোর পথ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের আশা, চলমান অভিযান অব্যাহত থাকলে দ্রুতই পুরো ডাকাতচক্র ধরা পড়বে এবং রাতের সড়কে নিরাপত্তা ফিরে আসবে।