প্রকাশিত : ০৮ মে, ২০২৬ ২১:১৩ (শনিবার)
আপত্তি তুলেছে পুলিশ, ১০ মে শুরু হচ্ছে সিলেট বইমেলা

ছবি: সংগৃহীত

নানা জটিলতা ও অনুমোদন বাতিলের ঘটনার পর অবশেষে শুরু হতে যাচ্ছে প্রকাশক পরিষদ, সিলেট আয়োজিত বইমেলা। আগামী ১০ মে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বইমেলার উদ্বোধন হবে। চলবে ১৮ মে পর্যন্ত।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ, সিলেট সিটি করপোরেশন ও সিলেট জেলা পরিষদের সহযোগিতায় এবার বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণ দেখিয়ে বইমেলার অনুমোদন বাতিল করেছিল পুলিশ। তবে পরবর্তীতে আয়োজকদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে সেই আপত্তি তুলে নেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, গত ২৪ এপ্রিল বইমেলা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ২৩ এপ্রিল রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে পূর্বে দেওয়া অনুমোদন হঠাৎ বাতিল করা হয়। সেসময় সিলেট মহানগর পুলিশের নগর বিশেষ শাখার উপ-কমিশনারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় বইমেলা আয়োজনের পূর্বের দেওয়া অনুমোদন বাতিল করা হলো।’

প্রকাশক পরিষদ নেতারা জানান, পরে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা শেষে পুনরায় অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রকাশক পরিষদ সিলেটের সাধারণ সম্পাদক সুফি সুফিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আমাদের আমন্ত্রণ করে বলেছেন- আপনারা বইমেলাটা করেন। যা হওয়ার হয়েছে, আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতার চেষ্টা করবো।’

তিনি আরও জানান, স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসকও বইমেলা আয়োজনের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বইপ্রেমী, পাঠক, কবি ও সাহিত্যিকদের মেলায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সূত্র জানায়, গত মাসে বইমেলা আয়োজনকে কেন্দ্র করে প্রকাশক পরিষদের সদস্যভুক্ত কয়েকটি প্রকাশনা সংস্থাকে নিয়ে আপত্তি তোলে একটি পক্ষ। তারা সংশ্লিষ্ট প্রকাশকদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ এনে পুলিশ কমিশনারের কাছে মেলা বন্ধের দাবি জানায়। এরপরই মেলার অনুমোদন বাতিল করা হয়।

তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় পুলিশ প্রশাসন প্রকাশক পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে পুনরায় বইমেলা আয়োজনের উদ্যোগ নিতে উৎসাহ দেয়। পরে নতুন তারিখ নির্ধারণ করে পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করা হয়।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকার আমলেও গত বছর ৭ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি সিলেটে প্রকাশক পরিষদ বইমেলার আয়োজন করেছিল। তখনও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অজুহাতে মেলা বাতিল করা হয়েছিল। পরপর দুইবার বইমেলার মতো একটি সৃজনশীল আয়োজন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দেশ-বিদেশের সংস্কৃতিপ্রেমীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।