প্রকাশিত : ০৯ মে, ২০২৬ ২১:৫১ (রবিবার)
‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে বহুমাত্রিক পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের ঘোষণা উপদেষ্টার

ছবি: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং একক শক্তির আধিপত্যের যুগ শেষের পথে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে কৌশলগতভাবে নমনীয়, বহুমাত্রিক ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট” নীতির ভিত্তিতে সরকার এমন পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করবে, যা কোনো নির্দিষ্ট দেশকেন্দ্রিক নয়, বরং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। বাংলাদেশ সব দেশের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখবে, তবে কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল হবে না- এটাই সরকারের মূল অবস্থান ‘

শনিবার (৯ মে) রাজধানীর দ্য ওয়েস্টিন ঢাকা-এ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস)) আয়োজিত ‘সবার আগে বাংলাদেশ: নতুন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুমায়ুন কবির আরও বলেন, অর্থনৈতিক কূটনীতি নতুন পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হবে। এর মধ্যে রয়েছে রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ বৃদ্ধি।

তিনি জানান, বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের মধ্যে একটি অর্থনৈতিক সেতুবন্ধন হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহযোগিতামূলক অবস্থান সমর্থন করে এবং বাণিজ্য, সংযোগ ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা-সম্পর্কিত উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে।

জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ শুধু ক্ষতিগ্রস্ত দেশ নয়, বরং বৈশ্বিক জলবায়ু কূটনীতিতে নেতৃত্ব দিতে চায়। জলবায়ু ন্যায়বিচার ও ন্যায্য অর্থায়নের দাবিতে দেশটি আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে অভ্যন্তরীণ সুশাসন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের ওপর। তাই সরকার দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ, জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআইপিএসএস-এর প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান। এতে কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।