ছবি: আহমাদুল কবির।
মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মালয়েশিয়া বাংলাদেশ ফোরাম অ্যাসোসিয়েশন (এমবিএফএ)-এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান আর্ট, কালচার অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ প্রোগ্রাম (এসিএলপি)-এর কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে রোববার (১০ মে) এক জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে এমবিএফএ-এর সদস্যবৃন্দ, কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা অংশ নেন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর (রাজনৈতিক) ও হেড অব চ্যান্সারি (এইচওসি) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বিদেশে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মাঝে বাংলা ভাষা, শিল্প ও সংস্কৃতি চর্চার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, প্রবাসে জন্ম নেওয়া ও বেড়ে ওঠা শিশুদের মধ্যে মাতৃভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় ধরে রাখতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি এমবিএফএ-এর উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, এসিএলপি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের ঐতিহ্য, ভাষা ও সংস্কৃতি পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একইসঙ্গে তিনি এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত ও আরও বিস্তৃত পরিসরে পরিচালনার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বাংলা ভাষা শিক্ষা, শিল্পচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডভিত্তিক বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এমবিএফএ-এর সভাপতি প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশুদের জন্য একটি সুন্দর সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে এসিএলপি কাজ করবে।
তিনি জানান, শিশু-কিশোরদের বাংলা ভাষা শেখানো, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী করে তুলতে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মাঝে বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বন্ধন আরও দৃঢ় হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন, এমবিএফএ-এর সহ-সভাপতি শহিদুল হাসান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য ফরহাদ হোসেন ও ফরিদুজ্জামান মারুফ।
এমবিএফএ-এর নির্বাহী কমিটির সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা এসিএলপি-এর কার্যক্রমকে আরও সমৃদ্ধ করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
এ সময় এসিএলপি নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করার জন্য এমবিএফএ-এর নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহফুজ কায়সার অপুকেও বিশেষ ধন্যবাদ জানানো হয়।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের মতে, এসিএলপি-এর কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়া মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর মাধ্যমে বাংলা ভাষা, শিল্প ও সংস্কৃতির বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
বিশেষ করে প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের মধ্যে মাতৃভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় ধরে রাখতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অভিভাবক ও কমিউনিটির সদস্যরা।