প্রকাশিত : ১৩ মে, ২০২৬ ১২:২৪ (বুধবার)
১৫ বছর পর খালাস পেলেন ইলিয়াস আলীসহ ৩৮ জন

সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমায় যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগ ও এক যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় দীর্ঘ ১৫ বছর পর দায়ের করা মামলায় বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলীসহ ৩৮ জন আসামি খালাস পেয়েছেন।

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে মামলার সাক্ষ্য ও প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল সিলেটের বিচারক মো. শরিফুল ইসলাম আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাসের রায় ঘোষণা করেন।

খালাসপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলী, অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান, অ্যাডভোকেট এটিএম ফয়েজ, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম ফারুক এবং নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনারসহ আরও অনেকে।

আসামি পক্ষের আইনজীবী হিসেবে আদালতে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট হাসান রিপন পাটোয়ারী, অ্যাডভোকেট মসরুর চৌধুরী শওকত ও অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমদসহ অন্যান্যরা।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত বছরের ২০১১ সালের ১৮ ডিসেম্বর দক্ষিণ সুরমার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বদিকোনা এলাকায় সিলেট-হবিগঞ্জ রুটের একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়া হয় এবং আরেকটি বাস ভাঙচুর করা হয়। ওই ঘটনায় বাসের ভেতরেই মারা যান কাজী নাছির (৭০)। পরে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফনের ১৩ দিন পর গত বছরের ১ জানুয়ারি তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

নিহতের স্ত্রী পরিচয় দেওয়া রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার জোৎস্না বেগম দক্ষিণ সুরমা থানায় গিয়ে জুতা, মুখমণ্ডলের ছবি, হাতঘড়ি ও বেল্ট দেখে মরদেহটি তার স্বামীর বলে শনাক্ত করেন।

ঘটনার পর ১৮ ডিসেম্বর রাতে দক্ষিণ সুরমা থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে একটি হত্যা মামলা এবং অপরটি দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা হয়।

মামলায় আসামি করা হয় বিএনপির তৎকালীন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম. ইলিয়াস আলী, তৎকালীন কেন্দ্রীয় বিএনপি'র সহ স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান, বিএনপি নেতা এটিএম ফয়েজ, ফখরুল ইসলাম ফারুক, নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনার, কোহিনুর আহমদ (৩৮), আশিক (৩৫), মকছুদ আহমদ (৩৩), রাসেল (২৮), তোরন (৩০), সামছুল ইসলাম টিটু (৩১),এমএ মান্নান, অলিউর রহমান, কামাল হোসেন, রুবেল আমিন সুমন (কাউয়া সুমন), তোফায়েল আহমদ সুহেল, শরিফ আহমদ, আব্দুল কুদ্দুস, আব্দুল বাছিত, সুহেল, মো. কামরুজ্জামান, আজমল বখত সাদেক, শাকিল মোর্শেদ, শাহাব উদ্দিন, মো. শাহজাহান, শামীম (২৯), তাজুল ইসলাম (৩৯), আলী মিয়া (২৫), হোসেন আহমদ (২৬), ছালেক আহমদ (২৯) জোবায়ের আহমদ (২৮), লুৎফুর রহমান (৩৮), মো. জাহেদ হোসেন (২৮), জালাল আহমদ (৪০), মুসা মিয়া (৩০), জিহাদ চৌধুরী (১৮), মো. আব্দুল মজিদ (৪২), মজম্মিল আলী (৩০), আঙ্গুর মিয়া (২৫) ও সুহেদুর রহমানকে (৩২)।