প্রকাশিত : ১৩ মে, ২০২৬ ১৮:৪৯ (বৃহস্পতিবার)
প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগে জট কাটছে, সিলেটেও শুরু পুলিশ ভেরিফিকেশন

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ দুই মাসের স্থবিরতা কাটিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নতুন গতি এসেছে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীর পুলিশ ভেরিফিকেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা পাওয়ার পর দেশের বিভিন্ন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস নির্বাচিত প্রার্থীদের তথ্য সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পাঠিয়েছে। এর মধ্যে সিলেট জেলার প্রার্থী তালিকাও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুলিশ ভেরিফিকেশন কার্যক্রম আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে শেষ হতে পারে। এরপর নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগদান প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হলেও যোগদান প্রক্রিয়া আটকে থাকায় নির্বাচিত প্রার্থীরা চরম অনিশ্চয়তায় ছিলেন। সম্প্রতি পুলিশ ভেরিফিকেশন শুরু হওয়ায় চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, সিলেটসহ দেশের প্রায় সব জেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিস নির্বাচিত প্রার্থীদের ফাইল জেলা পুলিশ সুপারের দপ্তরে পাঠিয়েছে। 

সিলেট জেলা পুলিশসূত্র জানায়, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার পর জেলার ১৩টি উপজেলায় পুলিশ ভেরিফিকেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৬১ জেলাতেই পর্যায়ক্রমে এই কার্যক্রম চালু হয়েছে।

সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ ইমজা নিউজকে জানান, সিলেট জেলার ৪ শত ৬৪ জন প্রার্থীর ফাইল পুলিশ প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকের শিক্ষক সংকট কাটাতে সরকার ও শিক্ষা-প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সিলেট জেলায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য সিলেট জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পাঠিয়েছি।’ নির্দিষ্ট সময়সীমা বলা কঠিন হলেও যথাশীঘ্র পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। 

এর আগে ৩ মে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের প্রথম দিনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, আটকে থাকা ১৪ হাজারের বেশি প্রার্থীকে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া হবে এবং কাউকেই বাদ দেওয়া হবে না। তবে যোগদানের পর শিক্ষকদের প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণকেন্দ্রে (পিটিআই) প্রশিক্ষণ নিতে হবে। প্রশিক্ষণে অকৃতকার্য হলে শিক্ষকতা চালিয়ে যেতে পারবেন না বলেও জানান তিনি।

চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতায় পড়ায় নির্বাচিত প্রার্থীরা ঢাকাসহ সারা দেশে আন্দোলনে নামেন। গত ১৯ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলন করেন এবং ৬১ জেলার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেন তাঁরা। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় প্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি আবেদনকারীর মধ্য থেকে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন। গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চের মধ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ডোপ টেস্ট ও সনদ যাচাই সম্পন্ন হয়। সবশেষে পুলিশ ভেরিফিকেশন শুরু হওয়ায় মে মাসের মধ্যেই নিয়োগপত্র পাওয়ার আশা করছেন প্রার্থীরা।