প্রকাশিত : ১৬ মে, ২০২৬ ২১:০৯ (রবিবার)
‘এক দেশ, এক আইন’ নীতিতে অভিন্ন দেওয়ানি আইন চালুর পথে আসাম

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের আসাম রাজ্যে ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) বা অভিন্ন দেওয়ানি আইন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর প্রথম বৈঠকেই এ সংক্রান্ত প্রস্তাব পাস হয়েছে। জানানো হয়েছে, আগামী ২৬ মে এই প্রস্তাবটি বিল আকারে আসাম বিধানসভায় উত্থাপন ও পাস করা হতে পারে।

এ নিয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ইউসিসি বাস্তবায়নের আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বিজেপি-শাসিত রাজ্যও এ ধরনের আইন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে গেছে।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, প্রস্তাবিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সব নাগরিকের জন্য আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি জানান, বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং ‘লিভ-ইন রিলেশনশিপ’ বা বিবাহ ছাড়াই একসঙ্গে বসবাসের মতো বিষয়গুলোকে একটি অভিন্ন আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হবে।

তবে আদিবাসী সম্প্রদায়ের নিজস্ব রীতি-নীতি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের স্বার্থে তাদের এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হবে বলেও জানান তিনি।

ভারতের মুসলিম সংগঠন ও সমাজের প্রতিনিধিরা দীর্ঘদিন ধরেই ইউসিসির বিরোধিতা করে আসছেন। তাদের মতে, এই আইন ব্যক্তিগত বিষয়—যেমন বিয়ে, তালাক ও উত্তরাধিকার—সংক্রান্ত ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক বিধানকে অগ্রাহ্য করবে।

সমালোচকদের দাবি, বাধ্যতামূলক অভিন্ন আইন ধর্মীয় স্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠদের সামাজিক রীতিনীতি চাপিয়ে দেওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানান, ইউসিসি ‘এক দেশ, এক আইন’ নীতির ভিত্তিতে প্রণয়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, উত্তরাখন্ড, গোয়া ও গুজরাট ইতোমধ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বাস্তবায়নের পথে এগিয়েছে। আসামও এখন আনুষ্ঠানিকভাবে সেই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে।

প্রস্তাবিত আইনে নারীদের জন্য বৈধ বিয়ের বয়স ১৮ এবং পুরুষদের জন্য ২১ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

এছাড়া স্বামী-স্ত্রী, সন্তান এবং বাবা-মায়ের জন্য সমান উত্তরাধিকার অধিকার নিশ্চিত করা হবে। বিবাহিত ও ‘লিভ-ইন’ সম্পর্কে থাকা নারীরা ভরণপোষণের অধিকার পাবেন।

আইন অনুযায়ী, সব সন্তানের আইনি বৈধতা নিশ্চিত করা হবে এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রাথমিক হেফাজত মায়ের কাছে রাখার বিধান রাখা হয়েছে। কন্যাসন্তানদের জন্য সম্পত্তিতে সমান অধিকার, উত্তরাধিকার, বিবাহ নিবন্ধন ও বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত বিষয়ও আইনের আওতায় থাকবে।

আসামের পাশাপাশি ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও ইউসিসি বাস্তবায়নের আলোচনা চলছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ-এ সরকার গঠনকারী ভারতীয় জনতা পার্টি নির্বাচনী ইশতেহারে ইউসিসি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গেও এ আইন চালু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।