প্রকাশিত : ১৬ মে, ২০২৬ ২১:২৭ (রবিবার)
সুনামগঞ্জে মাদক নির্মূল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সচেতনতামূলক সমাবেশ

ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে মাদক নির্মূল এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার প্রত্যয়ে সামাজিক সচেতনতামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও সুশীল সমাজের যৌথ উদ্যোগে শনিবার (১৬ মে) বিকেলে উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। বক্তারা বলেন, মাদকবিরোধী আন্দোলন এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ-৫ (দোয়ারাবাজার-ছাতক) আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন।

তিনি বলেন, ‘মাদক ব্যবসা, উৎপাদন কিংবা সেবনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি দলীয় পরিচয়ের হলেও কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক সব স্তরকে একযোগে কাজ করতে হবে।’

এমপি মিলন আরও বলেন, ‘মাদক পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রবিনাশী একটি ব্যাধি। যুবসমাজ যখন মাদকের ফাঁদে পড়ে, তখন তাদের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে যায়। সুস্থ সমাজ গঠনে সবাইকে একটি বড় পরিবারের মতো একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুপ রতন সিংহ। তিনি বলেন, ‘মাদক নির্মূলের প্রথম ধাপ হচ্ছে সচেতনতা। পরিবার থেকে সমাজের প্রতিটি স্তরে নজরদারি বাড়ানো গেলে মাদকচক্র টিকতে পারবে না।’

বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদুল ইসলাম, দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ তারিকুল ইসলাম তালুকদার, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান সামছুল হক নমু, আলহাজ্ব আব্দুল বারী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলতাফুর রহমান খছরু, দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ, সুরমা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ এবং সমাজসেবক খলিলুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বক্তারা বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোরতা দিয়ে মাদকমুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন পারিবারিক সচেতনতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক শিক্ষা, সমাজপতিদের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং গণমাধ্যমের ইতিবাচক অবদান।

দোয়ারাবাজার থানার ওসি তারিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সর্বদা সক্রিয় রয়েছে। তবে মাদকবিরোধী যুদ্ধে জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। কোথাও মাদকসংক্রান্ত তথ্য পেলে দ্রুত প্রশাসনকে জানাতে হবে।’

সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় মাদক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে ইয়াবা, ফেন্সিডিল ও গাঁজা সেবনের প্রবণতা বৃদ্ধি নতুন সংকট তৈরি করছে। তাই এ ধরনের আয়োজন সামাজিক আন্দোলনকে আরও বেগবান করবে বলে তারা মনে করেন।

শিক্ষক, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক কর্মী, ব্যবসায়ী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে সমাবেশে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাই একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সমাপনী বক্তব্যে এমপি কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন বলেন, ‘আজকের এই সমাবেশ শুধু বক্তব্যের জন্য নয়, এটি একটি অঙ্গীকারের দিন। আমরা সবাই মিলে দৃঢ় অবস্থান নিলে দোয়ারাবাজার-ছাতকের মাটি অবশ্যই মাদকমুক্ত হবে।’

সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা মাদকবিরোধী শপথ গ্রহণ করেন এবং ভবিষ্যতেও নিয়মিত এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।