ছবি: সংগৃহীত
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান-এ আবারও সংঘবদ্ধ চক্রের হাতে সেগুনগাছ কাটার ঘটনা ঘটেছে। বন বিভাগের চোখ ফাঁকি দিয়ে উদ্যানের ভেতর থেকে গত দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে রাতের আঁধারে ২০ থেকে ২৫টি সেগুনগাছ কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি সক্রিয় চক্র বন থেকে গাছ চুরি করে আসছে। এ চক্রের সঙ্গে বন বিভাগের অসাধু কিছু কর্মচারী, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। তাদের ভাষ্য, ‘সবাই মিলে বনটা শেষ করে দিচ্ছে। না হলে এত বড় বড় গাছ কেটে নেওয়া সম্ভব নয়।’
গেলো শুক্রবার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ডুমুরতলা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিশাল আকৃতির দুটি সেগুনগাছ কেটে নেওয়ার পর পড়ে আছে গাছের গোড়া ও করাতে কাটা কাঠের গুঁড়া। সেখান থেকে পূর্ব-দক্ষিণ দিকে আরও এগিয়ে একই ধরনের আরও কয়েকটি কাটা গাছের চিহ্ন দেখা যায়। বনভূমির প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা ঘুরে অসংখ্য কাটা গাছের গোড়া চোখে পড়ে, যা বন উজাড়ের নীরব সাক্ষী হয়ে আছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, পুরো বন ঘুরে অন্তত ২০ থেকে ২৫টি কাটা গাছ দেখা গেছে। তার দাবি, মাত্র দুই-তিন দিনের মধ্যেই এসব গাছ কাটা হয়েছে। এর আগেও বহুবার একইভাবে গাছ চুরির ঘটনা ঘটেছে।
সাতছড়ি এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা সাধু কপালি বলেন, প্রায়ই এভাবে বন থেকে গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না। রাতে সংঘবদ্ধভাবে গাছ কাটা হয়, সকালে এসে শুধু কাটা গোড়া দেখা যায়। বন বিভাগের লোকজন চাইলে এগুলো বন্ধ করা সম্ভব, কিন্তু রহস্যজনক কারণে বারবার একই ঘটনা ঘটছে। এভাবে চলতে থাকলে কয়েক বছরের মধ্যেই সাতছড়ির বন অনেকটাই উজাড় হয়ে যাবে।’
এ বিষয়ে সাতছড়ি রেঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, ‘দুটি সেগুনগাছ চুরির ঘটনা নিশ্চিত হওয়ার পর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’