ছবি: সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় বিজিবি’র সোর্স সন্দেহে আগুর নামের এক হতদরিদ্র ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে। নিহত আংগুর উপজেলার রাজাই গ্রামের মুনসুর আলীর ছেলে। এ ঘটনায় গোটা সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি চোরাকারবারি চক্র তাকে বিজিবি’র তথ্যদাতা বা সোর্স সন্দেহ করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।
রোববার (১৭ মে) ভোর সকালে তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের রাজাই গ্রামে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে আংগুরকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। পরে তাকে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে গেলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করার আগেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়।
নিহতের পরিবার দাবি করেছে, আগুর অত্যন্ত দরিদ্র ও নিরীহ প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন না।
খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
এদিকে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও অপরাধচক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। এলাকাবাসী হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই নাজমুল ইসলাম জানান, নিহতের লাশ সুনামগঞ্জ সদরের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে কে বা কারা জড়িত রয়েছে এখনো কোন তথ্য পাওয়া যায় নি। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার জানতে তদন্ত চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।