ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ৫২ দিন ধরে বন্ধ থাকা ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল দ্রুত চালুর দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন চা-শ্রমিকরা।
রবিবার (১৭ মে) দুপুরে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন চা-বাগান থেকে শতাধিক শ্রমিক শহরে এসে বিক্ষোভ মিছিল শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শ্রম মন্ত্রী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।
চা-শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশ নেন বিভিন্ন বাগানের শ্রমিকরা। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের কাছে স্মারকলিপি তুলে দেন সংগঠনের নেতারা। এসময় উপস্থিত ছিলেন চা-শ্রমিক সংঘের সহ-সভাপতি মধু রজক, সাধারণ সম্পাদক হরিনারায়ন হাজরা, সাংগঠনিক সম্পাদক লক্ষীমনি ব্যক্তি, শ্রমিকনেতা সবুজ বাউরী, শত্রুঘ্ন লোহারসহ অন্যরা।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, দেশের শীর্ষ চা-উৎপাদনকারী ডানকান ব্রাদার্স-এর পরিচালনাধীন মৌলভীবাজারের ১২টি ও হবিগঞ্জের ৪টিসহ মোট ১৬টি চা-বাগানের শ্রমিক-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের প্রায় লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল। ১৯৯৪ সালের ২৬ মার্চ কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগর চা-বাগানে হাসপাতালটি চালু হয়।

শ্রমিকদের অভিযোগ, গত ২৭ মার্চ থেকে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। একজন শ্রমিক-কন্যার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার অজুহাতে সেবা কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে চিকিৎসাসেবা না পেয়ে অন্তত ১০ জন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, দৈনিক সর্বোচ্চ ১৮৭ টাকা ৪৩ পয়সা মজুরিতে জীবনযাপন করা চা-শ্রমিকরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। এমন অবস্থায় হাসপাতাল বন্ধ থাকায় তাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফের জরিপেও চা-শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও জীবনমানের করুণ চিত্র উঠে আসে।
চা-শ্রমিক সংঘের পক্ষ থেকে ৪ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো— ১. অনতিবিলম্বে ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল চালু করা; ২. পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফ নিয়োগ দিয়ে হাসপাতাল আধুনিকায়ন এবং অস্ত্রোপচারসহ উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা; ৩. শ্রমিক-কন্যা ঐশী রবিদাসের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত ও তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান; ৪. হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স, স্টাফ ও রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।
স্মারকলিপি গ্রহণ করে জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর পাশাপাশি হাসপাতাল চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এর আগে মৌলভীবাজার চৌমুহনা চত্বরে অনুষ্ঠিত শ্রমিক সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মধু রজক। সভা পরিচালনা করেন হরিনারায়ন হাজরা। এতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস, সুভাষ গৌড়, রামনারায়ণ গৌড়, কাজল হাজরাসহ অন্যান্য নেতারা।