ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ প্রকল্পের শিক্ষক-শিক্ষিকা, কেয়ারটেকারসহ সংশ্লিষ্ট জনবলকে দ্রুত রাজস্ব খাতে স্থানান্তর এবং সরকারি গ্রেডে বেতন-ভাতার দাবিতে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সাথে শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।
সোমবার (১৮ মে) সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ১৯৯৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়, যা দেশের শিক্ষা বিস্তার, নৈতিক মূল্যবোধের জাগরণ এবং নিরক্ষরতা দূরীকরণে গত তিন দশক ধরে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে আসছে। সফলতার সাথে ৭টি পর্যায় শেষ করে প্রকল্পটি বর্তমানে ৮ম পর্যায়ে পদার্পণ করেছে এবং এর আওতায় ১ম থেকে ৬ষ্ঠ পর্যায় পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি ১৫ লক্ষ ৯ হাজার ৯৫০ জন এবং ৭ম পর্যায়ে প্রায় ১ কোটি ২১ লক্ষ ৫১ হাজার শিক্ষার্থীকে শিক্ষা প্রদান করা হয়েছে, যা দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ও নৈতিকতা গঠনে একটি বিরল সাফল্য। বর্তমানে সারা দেশে এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭১,৯৪৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছেন, যারা কেবল নামমাত্র ভাতার বিনিময়ে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
সম্মেলনে আরো বলা হয়, তাদের কাজের পরিধি শুধু সাধারণ পাঠদানেই সীমাবদ্ধ নয়; তারা সরকারি তহবিলে যাকাত প্রদানে মুসল্লিদের উৎসাহিত করেন, নিজ উদ্যোগে যাকাত সংগ্রহ করেন এবং মাদক, বাল্যবিবাহ, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টিসহ সরকারের বিভিন্ন টিকাদান কর্মসূচি ও সামাজিক বার্তা বিনা পারিশ্রমিকে অতি স্বল্প সময়ে জনগণের কাছে পৌঁছে দেন। একটি নৈতিক ও আদর্শ সমাজ গঠনে এত বড় অবদান রাখার পরেও আজ তারা সমাজে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনটি প্রধান দাবি পেশ করা হয়- শিক্ষা বিস্তারে নিয়োজিত এই প্রকল্পটিকে দ্রুত সরকারি রাজস্ব খাতের আওতাভুক্ত করা, প্রকল্পের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, কেয়ারটেকার ও সংশ্লিষ্ট জনবলকে সরকারি স্কেল ও গ্রেড অনুযায়ী নিয়মিত বেতন-ভাতা প্রদান করা এবং চাকরির স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে তাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। উপস্থিত শিক্ষক নেতারা আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার তাদের এই দীর্ঘদিনের যৌক্তিক দাবিগুলো অবিলম্বে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।