ছবি: আহমাদুল কবির।
মালয়েশিয়া থেকে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে ইউরিয়া সার আমদানির সম্ভাবনা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশের হাইকমিশন ও মালয়েশিয়ার শীর্ষ জ্বালানি ও রাসায়নিক প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাস কেমিকেলস গ্রুপ বেরহাদের মধ্যে।
সোমবার (১৮ মে) কুয়ালালামপুরের পেট্রোনাস টুইন টাওয়ারে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সার, জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন পেট্রোনাস কেমিকেলস গ্রুপ বেরহাদের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর/প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাজুইন ইসমাইল।
আলোচনায় মালয়েশিয়া থেকে জি-টু-জি ভিত্তিতে ইউরিয়া সার আমদানির পাশাপাশি এলপিজি, এলএনজি এবং অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা ও কৃষিখাতে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করে।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেশের ক্রমবর্ধমান কৃষি উৎপাদন বজায় রাখতে নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত সার সরবরাহের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়। এ সময় মালয়েশিয়ার সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
পেট্রোনাস কেমিকেলস গ্রুপ বাংলাদেশের আগ্রহকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে এবং মালয়েশিয়া থেকে ইউরিয়া সার সরবরাহের বিষয়ে সহযোগিতামূলক মনোভাব ব্যক্ত করে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের সার আমদানিতে নতুন উৎস যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
বৈঠকে পেট্রোনাস কেমিকেলস মার্কেটিংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সার বিপণন বিভাগের প্রধান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ হাই কমিশনের উপ-হাইকমিশনার, প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) এবং তৃতীয় সচিব (রাজনৈতিক) বৈঠকে অংশ নেন।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জ্বালানি ও রাসায়নিক খাতে অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের সঙ্গে বাংলাদেশের এ ধরনের আলোচনা ভবিষ্যতে জ্বালানি ও কৃষিখাতে বহুমুখী সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।