প্রকাশিত : ১৯ মে, ২০২৬ ২১:০২ (বুধবার)
বিশেষ ব্যক্তি ও শিশুদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে যাবে সরকার: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবু জাফর মোঃ জাহিদ হোসেন বলেছেন, `দেশের বিশেষ ব্যক্তি ও শিশুদের জন্য সর্বোচ্চ সাহায্য ও সহযোগিতা করে যাবে সরকার। বর্তমানে দেশের সর্বত্রে ৪৬ লাখের উর্ধ্বে বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তি ও শিশুদের জন্য কাজ করে চলেছে।’

মঙ্গলবার (১৯মে) সিলেটের আমানুল্লাহ কনভেনশন সেন্টারে হিউম্যান কেয়ার বাংলাদেশের আয়োাজনে এবং ট্রোপ ইভেন্টস ও জি.আই.ই.টি ইন্সটিটিউট-এর সহযোগিতায় দিনব্যাপী সামিট এর অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ বলেন, ‘অনলাইন অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন অনুযায়ী ৪৬ লাখের বেশি বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি ও শিশু রয়েছেন। এ সকল বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি ও শিশুদেরকে সম্পদে রূপান্তর করতে কাজ করছে সরকার। তার অংশ হিসেবে বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি ও শিশুদের চিকিৎসা সেবা, বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ, খেলাধুলার জন্য আগ্রহীকরণসহ নানা ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে প্রতিটি ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে। তাই বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন এসকল ব্যক্তি ও শিশুদেরকে বোঝা মনে না করে, তাদের সহযোগিতায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আর এ সকল ব্যক্তি ও শিশুকে সম্পদে রূপান্তর করতে হলে প্রত্যেকের অভিভাবকদের গুরুত্ব অপরিসীম।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন শিশুদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে হলে আমাদের সমষ্টিগত দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি। রাষ্ট্র ও সমাজকে যৌথভাবে শিক্ষা, চিকিৎসা এবং সামাজিক অংশগ্রহণের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।’

আয়োজিত অনুষ্ঠানে হিউম্যান কেয়ারের আয়োজনে সিলেটে স্পেশাল এবিলিটি সামিট অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি ও শিশুদের মেধা, প্রতিভা এবং অধিকার সুরক্ষার মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে সিলেটে অনুষ্ঠিত হলো দেশের প্রথম বৃহৎ পরিসরের অন্তর্ভুক্তিমূলক প্ল্যাটফর্ম- ‘স্পেশাল এবিলিটি সামিট। এবারের সামিটের মূল প্রতিপাদ্য ছিল- ‘অ্যা সেলিব্রেশন অব হিউম্যান পটেনশিয়াল’ বা ‘মানব সক্ষমতার উদযাপন।’

সম্মানিত বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, এমপি বলেন, ‘বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন শিশুদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে হলে আমাদের সমষ্টিগত দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি। রাষ্ট্র ও সমাজকে যৌথভাবে শিক্ষা, চিকিৎসা এবং সামাজিক অংশগ্রহণের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন এই অসাধারণ মানুষদের সঠিক প্রশিক্ষণ ও সুযোগ দিলে তারা দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নে অনন্য অবদান রাখতে সক্ষম। এজন্য আমাদের কর্মপরিবেশকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সংবেদনশীল করতে হবে।’

হিউম্যান কেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এমজি রাব্বানী এর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি সৈয়দা শারমিন ফাতেমা, সাইকা তাবাসসুম চৌধুরী নাহিয়া-এর যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন, হিউম্যান কেয়ারের উপদেষ্টা সামা হক চৌধুরী ও সায়মা সুলতানা চৌধুরী লিনু।

সামিটে বিভিন্ন সেশনে সম্মানিত অতিথির বক্তব্য দেন, সিলেট ৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালেক, সিলেট -৬ এর সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী, পিপিএম, সিলেট মেডিকেল ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সলর প্রফেসর ড. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, কেন্দ্রীয় বিএনপির ক্ষুদ্র ও কুটির বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, সিলেট মহানগর বিএনপির নির্বাচিত সভাপতি নাসিম হোসাইন, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ ইশতিয়াক আহমেদ সিদ্দিকী, ড. মোস্তফা শাহ জামান বাহার, সাংবাদিক আফতাব চৌধুরী, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট এর সেক্রেটারি মাহবুবুল হক চৌধুরী, এফবিসিসিআই এর সাবেক পরিচালক হিসকিল গোলজার, দৈনিক পূণ্যভুমির সম্পাদক আবু তালেব মুরাদ, সিলেট প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি সিরাজুল ইসলাম, সাংবাদিক ইকরামুল কবির, রাজনীতিবিদ ফয়সল আহমদ চৌধুরী, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আব্দুর রফিক, ফুলকলীর ডাইরেক্টর জসিম উদ্দিন, সাংবাদিক মঈন উদ্দিন মনজু, ইমজার সাধারণ সম্পাদক আনিস রহমান, হিউম্যান কেয়ারের সহ-সভাপতি রোটারিয়ান মাজহারুল ইসলাম জয়নাল, হিউম্যান কেয়ার এর সহ-সভাপতি এস রহমান সায়েফ, মিলাদ রহমান, মো. হাবিবুর রহমান প্রমুখ।

সামিটের মূল মুল প্রবন্ধ তুলে ধরেন জাকিয়া সুলতানা চৌধুরী লিমি চৌধুরী।

দিনব্যাপী এই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘ভুল ধারণা ভাঙা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা’ শীর্ষক একটি বিশেষ প্যানেল আলোচনা। যেখানে প্যানেলিস্ট হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন,
সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোস্তফা তৌফিক আহমেদ এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম।

আলোচনা শেষে উপস্থিত অভিভাবক ও তত্ত্বাবধায়কদের জন্য একটি উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বের আয়োজন করা হয়।

বিকালে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মোঃ জাহিদ হোসেন।

সামিটের সমাপনী অধিবেশনে বাংলাদেশে অটিজম সচেতনতা, সহায়তা ও উন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সমাজসেবক, দানবীর ও শিল্পপতি ড. রাগীব আলীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

পুরস্কার বিতরণীর আগে বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন শিশুদের পরিবেশনায় এক মুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও স্পেশাল ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের মাঝে বিপুল সাড়া ফেলে।

অনুষ্ঠানের শেষলগ্নে সামিটের ইভেন্ট চেয়ার আলেয়া ফেরদৌসী তুলির ধন্যবাদ বক্তব্যের মাধ্যমে সামিটের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

দিনব্যাপী এই আয়োজনে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সদস্য, অটিজম বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, অভিভাবক এবং বিপুলসংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।