প্রকাশিত : ২০ মে, ২০২৬ ১৬:১৮ (বৃহস্পতিবার)
সিসিকের ভোটে নেই দলীয় প্রতীক, থাকবে তুমুল প্রতিযোগিতা: কে হবেন মেয়র?

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, কারণ আসন্ন ভোটে থাকছে না দলীয় প্রতীক। ফলে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং স্থানীয় প্রভাবই হয়ে উঠছে মূল প্রতিযোগিতার কেন্দ্র। এমন পরিস্থিতিতে নগরবাসীর মধ্যে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, শেষ পর্যন্ত কে বসবেন নগরপিতার চেয়ারে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের মধ্যে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। তিনি বলেন, নতুন আইনের অধীনে সিটি করপোরেশন নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া অনুষ্ঠিত হবে এবং সিলেটসহ ১২টি সিটি করপোরেশনের তফসিল একযোগে ঘোষণা করা হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ এবং সিটি করপোরেশনসহ পাঁচ ধরনের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।

এই ঘোষণার পর সিলেট সিটি করপোরেশনকে ঘিরে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ও জটিলতা নিয়ে নতুন করে মূল্যায়ন শুরু হয়েছে। জনপ্রতিনিধি অপসারণের পর প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলেও শুরুতে নাগরিক সেবায় ধীরগতি দেখা দেয়। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই জটিলতা কিছুটা কমেছে এবং সেবায় গতি ফিরতে শুরু করেছে। তবুও স্বাভাবিক গতিশীলতা পুরোপুরি ফিরে পেতে নির্বাচিত প্রতিনিধির বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে কাউন্সিলর না থাকায় সাধারণ মানুষকে ছোটখাটো কাজের জন্যও নগর ভবনে যেতে হচ্ছে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, বিভিন্ন সনদপত্র সংগ্রহসহ প্রয়োজনীয় সেবাগুলো পেতে ভোগান্তি বাড়ছে। ফলে নগরবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব নিলে এই দীর্ঘসূত্রিতা কমবে।

সর্বশেষ ২০২৩ সালের ২১ জুন অনুষ্ঠিত সিসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকে অপসারণ করা হয় এবং সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় প্রতীক না থাকায় এবার নির্বাচন আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। বিশেষ করে সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট অঞ্চলে বিএনপির শক্ত অবস্থান সিটি নির্বাচনেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডে ইতোমধ্যে ভোটের হিসাব-নিকাশ শুরু হয়ে গেছে। প্রায় ৫ লাখ ২৫ হাজার ভোটারের এই নগরে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হলে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে কিছুটা গতি ফিরলেও নগরবাসীর প্রত্যাশা এখন একটাই, দ্রুত নির্বাচন হোক এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ সেবা ফিরে আসুক। এখন দেখার বিষয়, দলীয় প্রতীকবিহীন এই নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠছে সিসিকের নেতৃত্ব।