৬শ কোটি টাকার বিল পরিশোধ করেও ৬ বছর ধরে বিকল হয়ে পরে আছে হবিগঞ্জের শাহজিবাজার ১০০ মেগাওয়াট গ্যাস টারবাইন বিদ্যুৎকেন্দ্র।
২০১৭ সালে হবিগঞ্জের শাহজিবাজারে ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন অত্যাধুনিক গ্যাস টারবাইন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড পিডিবি। ৮৯০ কোটি টাকার কাজটি পায় চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না ক্যাবল কর্পোরেশন ইঞ্জিনিয়ারিং সিসিসিই লিমিটেড। আমেরিকান প্রতিষ্ঠান জেনারেল ইলেক্ট্রনিক্সের LMS100 মডেলের অত্যাধুনিক অ্যারো-ডেরিভেটিভ গ্যাস টারবাইন বসানোর হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২০ সালের জুনে কাজ শেষে উৎপাদনে যাওয়ার কথা ছিল বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির।
কিন্তু ২০২০ সালের মার্চে কোভিড সংক্রমণ বাড়ায় জেনারেল ইলেক্ট্রনিক্সের লোকজন দেশে ফিরে যান। ফলে পিছিয়ে পড়ে কাজ।
শাহজিবাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক এ কে মফিজউদ্দিন আহমেদ জানান করোনা মহামারি স্বাভাবিক হলে প্রায় ১ বছর পরে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে চালু করলে প্লান্টের (RTR) কেন্দ্রটি নির্ভরযোগ্য পরিক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পরে চলন্ত অবস্থায় গ্যাস টারবাইনের ব্লেড ভেঙ্গে যায়। মেরামত শেষে ওই বছরেই ২৯ অক্টোবর ২০২১ সালে আবারও চালু করা হয় কেন্দ্রটি। কিন্তু আবারও দেখা দেয় যান্ত্রিক ত্রুটি। এবার পরিবর্তন করে আনা হয় "সুপার কোর মেশিন", ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আবারও উৎপাদনে যাওয়ার চেষ্টা চালায় কর্তৃপক্ষ, ২ মাস ভালোভাবে চলার পরে ২৯ এপ্রিল ২০২৪ই আবার প্লান্টের ব্লেড ভেঙ্গে যায়, তারপর থেকে এভাবেই পড়ে আছে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি।
কেন্দ্রটি থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৪ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হওয়ার কথা ছিল। যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। পরিকল্পনা অনুযায়ী সময়মতো উৎপাদনে যেতে পারলে, গত ছয় বছরে এই কেন্দ্র থেকে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু বাস্তবে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে এ পর্যন্ত সরবরাহ হয়েছে মাত্র ৩৪ কোটি টাকার বিদ্যুৎ।
এদিকে, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ইতোমধ্যে মোট বিলের প্রায় ৭০ শতাংশ পরিশোধ করা হয়েছে। তবে পিডিবি জানিয়েছে, প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ শেষ হলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে আটকে রাখা ১০ শতাংশ অর্থ সমন্বয় করা হবে, যার পরিমাণ প্রায় ৯০ কোটি টাকা।
এর প্রধান প্রকৌশলী বলেছেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে সরকার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালুর উদ্যোগ নিতে পারে। তিনি মনে করেন, সরকারি উদ্যোগে কেন্দ্রটি পরিচালিত হলে অতিরিক্ত ভর্তুকি দেওয়ার প্রয়োজন হবে না এবং এতে উৎপাদন ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আবদুল মান্নান জানান, দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রটির কার্যক্রম ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রত্যাশিত সক্ষমতা দেখাতে না পারলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘পিডিবি যেহেতু ইনভেস্ট করে ফেলছে, এবং পেমেন্ট ৭০ ভাগ দেয়া হয়ে গেছে সে হিসেবে পিডিবি অবশ্যই এটা চালু করবে, স্কেপ করবে না।’
এদিকে প্লান্ট মেরামতের জন্য চীনা প্রতিষ্ঠান এবং মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। প্লান্টের যন্ত্রাংশ মেরামত ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে আলোচনা চলছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ২০২৭ সালের জুন মাসের দিকে প্লান্টটি পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।