ছবি: ইমজা নিউজ
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ ওঠেছে। লিজ বহির্ভূত এলাকা থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কে রয়েছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। দক্ষিণ কালা সাদেক বালুমহাল ইজারা দেওয়ার পর থেকেই ভিটেমাটি, ফসলি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রক্ষায় আন্দোলনে নেমেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত এলাকা থেকে বালু উত্তোলনের কথা থাকলেও একটি প্রভাবশালী চক্র লিজ বহির্ভূত এলাকা থেকে দেদারসে বালু উত্তোলন করছে। ফলে নদীভাঙন বাড়ছে এবং ঝুঁকিতে পড়ছে আশপাশের জনপদ।
ভুক্তভোগীরা জানান, গত কয়েক বছর ধরে অবৈধ ও অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের কারণে এলাকার মানচিত্রই বদলে গেছে। ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। এবারও একই পরিস্থিতির আশঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নদীপাড়ের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, প্রতি বছর বালুমহাল ইজারা দেওয়ার পর তাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। কারণ বালু উত্তোলনের নামে নদীর তীর কেটে নেওয়া হয়, যার প্রভাব পড়ে বসতবাড়ি ও কৃষিজমিতে। এতে অনেক পরিবার ক্ষতির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে পুরো এলাকা।
তবে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারি নিয়মের বাইরে কোনোভাবেই বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া বলেন, ‘সরকারি রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে কাউকে বালু তুলতে দেওয়া হবে না।’
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে ধলাই নদী এবং নদীপাড়ের শত শত পরিবারকে রক্ষা করা হবে।