প্রকাশিত : ২২ মে, ২০২৬ ২০:৫৫ (শনিবার)
সিলেটে মহানগর ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর সভাপতি শহীদুল ইসলাম সাজু বলেছেন, ‘আমরা দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে আজ রাজপথে দাঁড়িয়েছি। রাজধানী ঢাকায় ছোট্ট শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডে আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও দেশে এমন জঘন্য হত্যাকাণ্ড ও নৃশংসতা ছাত্র সমাজ কখনো প্রত্যাশা করেনি। ছোট্ট স্কুল শিক্ষার্থী রামিসার উপর বর্বরতা গোটা সমাজব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির ফলে দেশে আজ শিশু-নারীরা নিরাপদ নেই, ব্যবসায়ীরা ও শিক্ষার্থীরা নিরাপদ নেই। এভাবে কোন রাষ্ট্র চলতে পারেনা। অনতিবিলম্বে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে ২০২৪ এর ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে সংঘটিত সকল খুণ, ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি  শুক্রবার (২২ মে) বাদ জুমআ কেন্দ্রীয় কর্মসুচীর অংশ হিসেবে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড, দেশব্যাপী চাঁদাবাজী-সন্ত্রাস, নৈরাজ্য  ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রতিবাদে সিলেট মহানগর ছাত্রশিবির আয়োজিত বিশাল বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। মিছিলটি নগরীর কোর্টপয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে চৌহাট্টা পয়েন্টে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়।

সিলেট মহানগর ছাত্রশিবিরের প্রশিক্ষণ সম্পাদক কলিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মিছিল পরবর্তী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন- ছাত্রশিবির সিলেট জেলা পশ্চিমের সভাপতি আবু জুবায়ের ও শাবিপ্রবির সেক্রেটারি মুজাহিদুল ইসলাম।

মিছিলে সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীল ও বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

সভাপতির বক্তব্যে শহীদুল ইসলাম সাজু আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের আনাচে কানাচে চাদাবাজি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং এর নৈরাজ্য আশংকাজনক হারে বেড়ে গেছে। ফলে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দেশের মানুষ মনে করেছিলো-১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনের পর দেশে শান্তিশৃঙ্খলা ফিরে আসবে। কিন্তু বর্তমান সরকার জাতিকে হতাশ করেছে। তারা পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পথে হাঁটছে। তারা দখলদারি, চাঁদাবাজি, সিএনজি স্ট্যান্ড-বাসস্ট্যান্ড দখল করতে ব্যস্ত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে বিভিন্ন আইনের ফাঁকফোকর দেখিয়ে জনগণের সাথে ধোকাবাজি করছেন। আমরা বলতে চাই সেই তামাশা বন্ধ করুন, না হয় জনগণ আবার কিন্তু ফুসে উঠবে। আর জনগণ ফুসে উঠলে কি হতে পারে শেখ হাসিনার পরিণতি থেকে শিক্ষা নিন।’

তিনি আরো বলেন, ‘সরকারের পৃষ্টপোষকতায় দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবার দখলবাজি ও সিট বাণিজ্যের নোংরা রাজনীতি ফিরে এসেছে। দলীয় ভিসি নিয়োগের মাধ্যমে দেশের শীর্ষ ক্যাম্পাসগুলো থেকে শুরু করে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষকদের দায়িত্ব থেকে সরানোর মাধ্যমে ক্যাম্পাসগুলোকে নেতৃত্বহীণ করা হচ্ছে। সিলেটে ছিনতাই ও খুনের ঘটনা বেড়ে চলেছে। প্রধানমন্ত্রীর সিলেট সফরকালে নগরীর বিভিন্ন ওয়াল থেকে জুলাই গ্রাফিতি মুছে দেয়া হয়েছিল। তখন প্রশাসন বলেছিল. তারা আবার গ্রাফিতি অংকন করবে। কিন্তু এখনো গ্রাফিতি অংকন হয় নাই। এটা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতি অবমাননা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ভুলে যাবেন না, উপেক্ষা করবেন না। কারণ জুলাই আপনাদেরকে সরকারে আসার সুযোগ করে দিয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন ও দেশে খুণ, ধর্ষণ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিন। অন্যথায় ছাত্রশিবির ছাত্র সমাজকে সাথে নিয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।’