ছবি: সংগৃহীত
২০২৫ সালে সিলেট বিভাগের প্রতি পাঁচ জন বাসিন্দার মধ্যে একজনের কাছে পৌঁছেছে ব্র্যাকের সেবা। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আর্থিক সেবায় অন্তর্ভুক্তি, দুর্যোগ ও সংকট মোকাবিলা, নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন (ওয়াশ), জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, অভিবাসন এবং দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে এসব সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) দুপুরে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত ব্র্যাকের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সিলেট বিভাগে ব্র্যাকের ৪ হাজার ৯৫২ জন কর্মী বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করছেন। এদের মধ্যে ৪২ শতাংশ নারী। বিভাগজুড়ে সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচির ৩০০টি কার্যালয় এবং সামাজিক ব্যবসা উদ্যোগের ১৩টি কার্যালয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও মাইগ্রেশন কর্মসূচির পরিচালক সাফি রহমান খান সিলেট বিভাগে ব্র্যাকের উন্নয়ন কার্যক্রম, আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা এবং সমন্বিত উন্নয়ন উদ্যোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এছাড়া বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের সামাজিক উদ্যোগ-শিক্ষা কর্মসূচির প্রধান নিভিন রেজা।
সাফি রহমান খান বলেন, ব্র্যাকের লক্ষ্য মানুষের সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া। সমন্বিত উন্নয়নের লক্ষ্যে সাতটি অগ্রাধিকার নিয়ে কাজ করছে ব্র্যাক। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১৪৫ মিলিয়ন মানুষের সঙ্গে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০৩০ সালের মধ্যে ২৫০ মিলিয়ন মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন, মানসম্পন্ন শিক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং নারী-যুব ক্ষমতায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য এমরান আহমেদ চৌধুরী বলেন, সরকার ও ব্র্যাক এখন একে অপরের পরিপূরক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আরও প্রতিষ্ঠান এভাবে এগিয়ে এলে দেশে দারিদ্র্য থাকবে না। সিলেটের শাল্লা থেকে ব্র্যাকের যাত্রা শুরু হয়েছিল, যা সিলেটবাসীর জন্য গর্বের বিষয়।
সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান বলেন, ব্র্যাক তার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আরও গতিশীল হয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, জেলা পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান কায়েস লোদী, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক আতিয়া সুলতানা, সিলেট মহানগর জামায়াতে ইসলামির আমীর ফখরুল ইসলাম এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সিলেট সভাপতি অ্যাডভোকেট শিরীন আখতার।
বার্ষিক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৫ সালে সিলেট বিভাগে ১১ হাজার ৯৮৫টি অতি-দরিদ্র পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৯৬৬টি পরিবার অতিদারিদ্র্য অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসেছে। জলবায়ু সহনশীলতা বিষয়ে সহায়তা পেয়েছেন ৫ হাজার ২৮৩ জন।
মাইক্রোফাইন্যান্স কার্যক্রমের আওতায় ৬ লাখ ২ হাজার ৮০ জন সদস্যের মধ্যে ৯০ দশমিক ৭ শতাংশ নারী। দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১ হাজার ৩৮৭ জনের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবার আওতায় ৪৫ হাজার ৩ জনকে সম্পূর্ণ গর্ভকালীন সেবা (এএনসি) এবং ২৫ হাজার ৯৩৬ জনের নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া ৭৩ হাজার ৩৫৬ জন উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের প্রাথমিক স্বাস্থ্যপরীক্ষার আওতায় এসেছেন। চক্ষু সেবার আওতায় ৯১ হাজার ৮০৯ জনের চোখ পরীক্ষা, ২৩৪ জনের ছানি অপারেশন এবং ২০ হাজার ৭৯৭টি চশমা বিতরণ করা হয়েছে।
শিক্ষা খাতে সিলেট বিভাগে ব্র্যাকের ২৩৮টি প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ হাজার ৯৪৭ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এর মধ্যে ৫৫ শতাংশ নারী এবং ৪ শতাংশ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী। পাশাপাশি ১২টি স্কুলের ৭ হাজার ৭২৫ শিক্ষার্থীকে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
এ বিভাগে ব্র্যাকের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন ৪ হাজার ৫২ জন, যার মধ্যে ৪৫ শতাংশ নারী। অভিবাসন কর্মসূচির আওতায় পুনর্বাসন সহায়তা পেয়েছেন ৯১০ জন। প্রত্যাবর্তিত অভিবাসীদের মধ্যে ৪৬৫ জন উদ্যোক্তা দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, যাদের ৩৭ শতাংশ নারী।