প্রকাশিত : ২৩ মে, ২০২৬ ২২:৫৩ (রবিবার)
কানে নেপালেন বাজিমাত

ছবি: সংগৃহীত

​শনিবার রাতে পর্দা নামছে ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের। তার আগে শুক্রবার রাতে ঘোষণা করা হয় আঁ সার্তে রিগা বিভাগের পুরস্কার। এবারের আসরে সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে নেপালের সিনেমা, যা একাধিক অর্জনের মাধ্যমে ইতিহাস গড়েছে।

আঁ সার্তে রিগা বিভাগে প্রধান পুরস্কার জিতেছে অস্ট্রিয়ার নির্মাতা স্যান্ড্রা ওলনারের ‘এভরিটাইম’। শোক, অপরাধবোধ ও পারিবারিক ভাঙনের গল্পে নির্মিত ছবিটি উৎসবজুড়ে সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়। ছবিতে এক মর্মান্তিক ঘটনার পর মা, মেয়ে ও এক কিশোরের জীবন কীভাবে বদলে যায়—সেই মানবিক ও আবেগঘন গল্প তুলে ধরা হয়েছে।

পুরস্কার গ্রহণের সময় নির্মাতা বলেন, শিল্পীরা যেসব ‘অদ্ভুত’ বা ‘অস্বস্তিকর’ চিন্তাকে অনেক সময় উপেক্ষা করেন, তিনি সেগুলো আঁকড়ে রাখতে চান—কারণ সেখান থেকেই গুরুত্বপূর্ণ গল্প জন্ম নেয়।

তবে এবারের উৎসবের সবচেয়ে বড় চমক এসেছে নেপাল থেকে। আঁ সার্তে রিগা বিভাগে জুরি পুরস্কার পেয়েছে নেপালের পরিচালক অবিনাশ বিক্রম শাহর ‘এলিফ্যান্টস ইন দ্য ফগ’। এটি এই বিভাগে প্রথম নেপালি চলচ্চিত্র হিসেবে নির্বাচিত হয়েই পুরস্কার জিতে নেয়।

পুরস্কার ঘোষণার পর ছবির নির্মাতা ও দল মঞ্চে আবেগে নেচে ওঠে। পরিচালক বলেন, সিনেমার শক্তি হলো অন্ধকারের ভেতরেও আলো খুঁজে দেখা। তাদের গল্পকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

দক্ষিণ এশীয় পরিচয়, নিঃসঙ্গতা ও বেঁচে থাকার সংগ্রাম নিয়ে নির্মিত এই ছবিটি সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে। পাহাড়ি পরিবেশ, নীরবতা ও চরিত্রগুলোর একাকিত্ব মিলিয়ে ছবিটি দর্শকদের মধ্যে সহানুভূতি ও অস্বস্তির এক মিশ্র অনুভূতি তৈরি করে।

এদিকে বিশেষ জুরি পুরস্কার পেয়েছে অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র ‘আয়রন বয়’। সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন ব্র্যাডলি ফিওমোনা ডেম্বিয়াস, যিনি ‘কঙ্গো বয়’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য এই স্বীকৃতি পান। পুরস্কার গ্রহণের সময় তিনি আবেগঘন বক্তব্য দেন।

অন্যদিকে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার যৌথভাবে পেয়েছেন ড্যানিয়েলা ম্যারিন নাভারো, ম্যারিনা ডি তাভিরা ও মারিয়েল ভিলেগাস—ভ্যালেন্তিনা মারুয়েলের ‘ফরএভার ইওর ম্যাটারনাল অ্যানিমাল’ সিনেমার জন্য।

তবে আলোচনার আরেক কেন্দ্রবিন্দু ছিল জর্ডান ফার্স্টম্যানের প্রথম ছবি ‘ক্লাব কিড’। দীর্ঘ করতালি ও ব্যাপক বাজার চাহিদা সত্ত্বেও প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ ডলারে বিক্রি হওয়া ছবিটি কোনো পুরস্কার ছাড়াই উৎসব শেষ করেছে।

সমালোচক ও দর্শকদের মতে, এবারের কান উৎসব একদিকে যেমন নতুন নির্মাতাদের জন্য সাফল্যের দরজা খুলে দিয়েছে, অন্যদিকে বড় বাণিজ্যিক সম্ভাবনা থাকলেও পুরস্কার না পাওয়া চলচ্চিত্রগুলোর মাধ্যমে উৎসবের বৈচিত্র্যও স্পষ্ট হয়েছে।