প্রকাশিত : ২৫ মে, ২০২৬ ২২:০২ (মঙ্গলবার)
পাকিস্তানিদের শূন্য হাতে ফেরত পাঠাচ্ছে আমিরাত

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের গ্রামীণ জেলা চাকওয়াল জেলা-এর বিভিন্ন গ্রামে অন্তত ১০০ জনেরও বেশি শিয়া মুসলিম সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ফেরত এসেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ফেরত আসা এসব প্রবাসীর দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরে উপসাগরীয় দেশে কাজ ও সঞ্চয় হারিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট ১০৩ জন পাকিস্তানি নাগরিকের ভিসা ও অভিবাসন নথি, ফ্লাইট রেকর্ড এবং সাক্ষাৎকার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তারা বিভিন্ন সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বহিষ্কারের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন। ফেরত আসাদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন, বহিষ্কারের আগে তাদের ব্যক্তিগত সম্পদ ও সঞ্চয় ফেরত দেওয়া হয়নি।

অভিযোগ অনুযায়ী, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রেক্ষিতে হাজার হাজার পাকিস্তানি শিয়া নাগরিককে লক্ষ্য করে বহিষ্কার অভিযান চালানো হয়েছে। পাকিস্তানি শিয়া রাজনৈতিক সংগঠন মজলিস ওয়াহদাত-ই-মুসলেমিন-এর একটি ডেটাবেসে দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার শিয়া নাগরিককে বিভিন্ন সময়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যদিও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। অন্যদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে বহিষ্কার করা হয়নি; বরং অভিবাসন নিয়ম লঙ্ঘনের কারণেই এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বিষয়টি গভীরভাবে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে এবং তদন্ত শুরু করার কথা জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, অভিযোগগুলো সত্য হলে এটি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইঙ্গিত বহন করে।

পাকিস্তানে মোট শিয়া জনসংখ্যা প্রায় ৪ কোটি, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৭ শতাংশ। বিশেষ করে প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলো এই বহিষ্কারের কারণে বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছে বলে জানা গেছে।

ফেরত আসা অনেকেই জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের চাকরি ও ব্যবসা হারিয়ে তারা এখন সম্পূর্ণ শূন্য অবস্থায় দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, আটকের সময় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় আটক রেখে পরে দেশে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় পাকিস্তানের অভ্যন্তরেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে পর্যালোচনা চলছে বলে জানা গেছে।