ছবি: সংগৃহীত
নরসিংদীর ঘোড়াশালে আন্তঃনগর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করার সময় বজ্রপাতে সজীব সরকার (৪০) নামে এক যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে
রবিবার (২৪ মে) বিকেল প্রায় ৫টার দিকে ঘোড়াশাল ফ্ল্যাগ স্টেশন ও ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনের ছয় নম্বর বগির ছাদে অবস্থান করছিলেন সজীব। আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
পরে ট্রেনটি নরসিংদী রেলস্টেশনে পৌঁছালে ছাদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে রেলওয়ে পুলিশ। জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। নিহত সজীব সরকার নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার পলাশতলী ইউনিয়নের ফুলদী গ্রামের বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) দিলীপ চন্দ্র সরকার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
এদিকে ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ ঠেকাতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, স্টেশনগুলোতে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা, অতিরিক্ত নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও জোরদার করা হয়েছে।
তবে এই মর্মান্তিক ঘটনার পর জনমনে প্রশ্ন উঠেছে- এত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরও কীভাবে একজন যাত্রী ট্রেনের ছাদে উঠে দীর্ঘ পথ ভ্রমণ করলেন? নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোথায় ঘাটতি ছিল, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আবারও যাত্রীদের ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাত, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, ব্রিজ বা বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে সংঘর্ষসহ নানা কারণে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ অত্যন্ত প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করে।