ছবি: সংগৃহীত
ফুটবলের মহোৎসব শুরু হতে বাকি আর মাত্র ১৩ দিন। আগামী ১১ জুন থেকে বিশ্বমঞ্চে বল গড়ানোর অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা। অথচ এমন এক মাহেন্দ্রক্ষণের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েও চরম অনিশ্চয়তা আর আশঙ্কার মেঘ জমেছে ইরানের ফুটবল আকাশে। মাঠের লড়াইয়ে নামার আগেই মাঠের বাইরের এক অদৃশ্য প্রাচীরের মুখোমুখি হতে হচ্ছে পশ্চিম এশিয়ার এই দেশটিকে। বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ আমেরিকার পক্ষ থেকে এখনও মেলেনি ভিসা। ফলে ইরানের বিশ্বকাপ যাত্রা নিয়েই তৈরি হয়েছে এক বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন।
ফুটবলারদের নিরাপত্তা এবং প্রস্তুতি সচল রাখতে ইরান ফুটবল ফেডারেশন তাদের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শিবিরটি আগেই মেক্সিকোয় সরিয়ে নিয়েছে। পরিকল্পনা ছিল, তুরস্কের প্রাথমিক শিবির শেষ করে দল পাড়ি জমাবে মেক্সিকোয়। সেখান থেকেই সীমান্ত পেরিয়ে আমেরিকায় গিয়ে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো খেলবেন মেহেদি তারেমিরা। এই উদ্দেশ্যে তুরস্কের মার্কিন দূতাবাস থেকেই ভিসার আবেদন ইন্টারভিউ সম্পন্ন করেছেন ফুটবলার ও সাপোর্ট স্টাফরা।
ইরানের জাতীয় ফুটবল দলের মুখপাত্র আবুলফজ়ল দলের এই কৌশলী পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমরা আমেরিকার কাছে 'মাল্টিপল এন্ট্রি' (একাধিকবার যাতায়াতযোগ্য) ভিসা চেয়েছি। কারণ আমাদের শিবির থাকবে মেক্সিকোতে। সেখান থেকে ম্যাচ খেলতে ফুটবলারদের বারবার আমেরিকায় ঢুকতে হবে এবং বেরোতে হবে।’
বিশ্বকাপের মতো একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে সব দলের জন্য সমান সুযোগ বা 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু আমেরিকার এই ঢিলেমি ও উদাসীনতায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ইরানি ফুটবল কর্তারা। আবুলফজ়ল হতাশা ও ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা এখনও জানি না আমেরিকা আদৌ আমাদের ফুটবলারদের ভিসা দেবে কিনা। তবে এটুকু জোর দিয়ে বলতে পারি, অন্য দলগুলো যে ধরনের সমান সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে, আমরা তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। ভিসা জটিলতার কারণে দলের স্বাভাবিক প্রস্তুতিও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।’
আমেরিকার ভিসা নিয়ে যখন চরম ধোঁয়াশা, ঠিক তখনই বিকল্প ও দূরদর্শী ভাবনা থেকে কানাডার ভিসার জন্যও আবেদন করে রেখেছে ইরান। অথচ গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচই তাদের খেলার কথা মার্কিন মুলুকে।
হঠাৎ কানাডার ভিসার আবেদন কেন? এই প্রশ্নের জবাবে ইরানের এক ফুটবল কর্তা জানিয়েছেন, দল যদি গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে (নকআউট) উন্নীত হয়, তবে পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য তাদের কানাডায় পাড়ি দিতে হতে পারে। তাই শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়ো এড়াতে আগেভাগেই কানাডার ভিসার আবেদন সেরে রাখছে তারা।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দেশের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের ভিসা নিশ্চিত করতে বাধ্য। কিন্তু ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার দীর্ঘদিনের ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবার সবুজ গালিচার ফুটবলকেও গ্রাস করতে চলেছে। শেষ পর্যন্ত কূটনীতির জটিল জাল কেটে ইরানের ফুটবলাররা আমেরিকার মাটিতে বল পায়ে নামতে পারবেন, নাকি মাঠের বাইরের রাজনীতিই জয়ী হবে; তা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ক্রীড়াবিশ্ব।