প্রকাশিত : ৩০ মে, ২০২৬ ০১:০৪ (শনিবার)
দীর্ঘ প্রতীক্ষার শেষে বিশ্বকাপের মঞ্চে হালান্ড

ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল কখনও কখনও নির্মম। প্রতিভার দীপ্তি থাকলেও অনেক সময় বিশ্বকাপের দরজা খোলে না। ইতিহাসে এমন বহু কিংবদন্তি আছেন, যাদের পায়ের জাদু বিশ্বকে মুগ্ধ করেছে, অথচ বিশ্বকাপের ঘাসে তাদের পদচিহ্ন পড়েনি। সেই তালিকায় ছিল এক সময়ের বিস্ময়-স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডের নামও। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিশ্বকাপের মঞ্চে উঠতে চলেছেন নরওয়ের এই গোলমেশিন।

বহু বছর পর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে। আর সেই স্বপ্নযাত্রার সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র নিঃসন্দেহে আর্লিং হলান্ড। 
মাঠে তিনি যেন উত্তর ইউরোপের বরফভাঙা ঝড়; শক্তিশালী, ভয়ংকর এবং অপ্রতিরোধ্য। ডিফেন্ডারদের কাছে তাকে থামানো অনেকটা খালি হাতে বজ্র ধরার মতোই অসম্ভব।

এই মুহূর্তে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা হালান্ড। ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলে একের পর এক গোল করে তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। তার ফিনিশিং এতটাই নিখুঁত, যেন গোলপোস্টের প্রতিটি কোণ তার মুখস্থ। সুযোগ পেলেই বল জালে জড়িয়ে দেওয়া তার সহজাত অভ্যাস। অনেকেই তাকে আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে ভয়ংকর স্ট্রাইকার বলেন।

তবু কাতার বিশ্বকাপে তাকে দেখা যায়নি। কারণ, বিশ্বকাপ শুধু ব্যক্তিগত প্রতিভার মঞ্চ নয়; এটি পুরো দলের সাফল্যের গল্প। নরওয়ে তখন যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে কোটি ফুটবলপ্রেমীর মতো হালান্ডও টিভির সামনে বসে দেখেছিলেন বিশ্বকাপের মহারণ। সেই দৃশ্য যেন এক বাঘকে খাঁচার আড়াল থেকে জঙ্গল দেখার মতো।

অথচ এই সময়েই ফুটবলবিশ্বে তৈরি হচ্ছিল নতুন এক আলোচনা। নিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্দো পর হবে কিলিয়ান এমবাপ্পে  আর আর্লিং হলান্ডের নাম। এমবাপ্পে বিশ্বকাপ জিতে নিজেকে আরও ওপরে নিয়ে গেছেন। আর হালান্ডের সামনে ছিল একটাই আক্ষেপ; বিশ্বকাপের আলো ছুঁতে না পারা।

অবশেষে সেই আক্ষেপ মুছে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন পর নরওয়ে আবার বিশ্বকাপ খেলছে, আর হালান্ড হচ্ছেন সেই যাত্রার মুখ। দেশটির ফুটবল ইতিহাসে নতুন আশার প্রতীক হয়ে উঠেছেন তিনি। নরওয়ের সমর্থকদের কাছে তিনি এখন শুধু একজন স্ট্রাইকার নন, বরং এক নতুন যুগের দূত।

হালান্ডকে অনেকেই মেসির সঙ্গে তুলনা করেন, যদিও দু’জনের ফুটবল সম্পূর্ণ আলাদা। মেসি যেন তুলির আঁচড়ে ফুটবল আঁকা এক শিল্পী; হালান্ড সেখানে যুদ্ধক্ষেত্রের এক অগ্নিযোদ্ধা। মেসির খেলা কবিতা, হালান্ডের খেলা বিস্ফোরণ। কিন্তু দু’জনের মধ্যেই একটি জায়গায় মিল আছে; গোলের প্রতি অদম্য ক্ষুধা।

বিশ্বকাপের মঞ্চে এবার তাই বাড়তি নজর থাকবে হালান্ডের উপর। কারণ, ফুটবল ইতিহাস জানে; যখন কোনও মহান খেলোয়াড় প্রথমবার বিশ্বকাপের স্বাদ পান, তখন তিনি অনেক সময় নিজের ভেতরের সেরা রূপটি বের করে আনেন। হয়তো এই বিশ্বকাপেই হালান্ড প্রমাণ করবেন, কেন তাকে এই প্রজন্মের সবচেয়ে ভয়ংকর স্ট্রাইকার বলা হয়।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে বিশ্বকাপের দরজা খুলেছে তার জন্য। এখন দেখার, নরওয়ের এই গোলদানব সেই মঞ্চকে কতটা কাঁপাতে পারেন।