প্রকাশিত : ৩০ মে, ২০২৬ ১২:২০ (শনিবার)
নগরীর শিবগঞ্জ সেনপাড়ায় মব করে ব্যবসায়ীর ওপর হাম.লা, দোকান লু.টের অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

নগরীর শিবগঞ্জ সেনপাড়া এলাকায় এক ব্যবসায়ীর ওপর হামলা, দোকান ভাঙচুর এবং নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আহত ব্যবসায়ী খগেন্দ্র চন্দ্র দাস বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শুক্রবার সংবাদমাধ্যমের সামনে আহত ব্যবসায়ীকে নিয়ে হাজির হন তাঁর ছেলে রুবেল দাস। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর বাবা দীর্ঘদিন ধরে শিবগঞ্জ সেনপাড়া এলাকায় ‘রানী স্টোর’ নামে একটি দোকান পরিচালনা করে আসছেন। সম্প্রতি একটি শিশুকে কেন্দ্র করে শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলে সংঘবদ্ধভাবে তাঁর বাবার ওপর হামলা চালানো হয়।

রুবেল দাসের দাবি, ঘটনার সময় কয়েকজন ব্যক্তি দোকানে এসে হট্টগোল সৃষ্টি করেন এবং পরে সংঘবদ্ধভাবে তাঁর বাবার ওপর হামলা চালান। হামলাকারীরা দোকানে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি নগদ প্রায় তিন লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। তিনি অভিযোগ করেন, এলাকার চিহ্নিত অপরাধী খুর্শেদের ছেলে আরিফ ও তার সহযোগীরা এ হামলার সঙ্গে জড়িত। হামলাকারীরা একাধিক দফায় আক্রমণ চালিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দোকানে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরায় ঘটনার ভিডিও ধারণ হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না দেওয়ার কারণেই পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে তাঁদের ধারণা।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আহত ব্যবসায়ী খগেন্দ্র চন্দ্র দাস বলেন, ঘটনার দিন একটি শিশু দোকানের ফ্রিজের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। ফ্রিজ খোলার প্রয়োজন হওয়ায় তিনি শিশুটিকে সরে দাঁড়াতে বলেন। এ সময় দোকানে অন্য ক্রেতারাও উপস্থিত ছিলেন। কিছুক্ষণ পর শিশুটির বাবা দোকানে এসে কেন তাঁর মেয়ের মালামাল নিতে দেরি হয়েছে এবং কেন শিশুটির শরীরে স্পর্শ করা হয়েছে; এমন অভিযোগ তোলেন।

খগেন্দ্র চন্দ্র দাস বলেন, তিনি অভিযোগ অস্বীকার করলে ওই ব্যক্তি সেখান থেকে চলে যান। পরে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ফিরে এসে দোকানে হামলা চালানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরিবারের দাবি, ঘটনার বেশ কিছু সময় পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে। বর্তমানে তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া না গেলেও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।