ছবি: সংগৃহীত
মধ্য লাওসের জাইসোমবুন প্রদেশের একটি প্লাবিত গুহায় আটকে পড়া পাঁচ ব্যক্তি দীর্ঘদিনের নাটকীয় উদ্ধার অভিযানের পর শেষ পর্যন্ত নিজেরাই গুহা থেকে বেরিয়ে আসেন। এতে বিস্মিত আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল।
স্থানীয় সময় শনিবার, গুহার পানি নিষ্কাশনের কয়েকদিনের প্রচেষ্টা সফল হওয়ায় পানির স্তর উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এর ফলে উদ্ধারকারীরা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ডাইভিং অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়ার আগেই আটকে পড়া পাঁচ ব্যক্তি নিরাপদে গুহার প্রবেশমুখে পৌঁছে যান।
অস্ট্রেলীয় উদ্ধারকারী ডুবুরি জশ রিচার্ডস জানান, “আমি গুহার ভেতরে যাওয়ার জন্য ওয়েটস্যুট পরছিলাম, ঠিক তখনই তারা নিজেরাই বেরিয়ে আসে।”
জানা গেছে, স্বর্ণের সন্ধানে প্রায় এক সপ্তাহ আগে গুহায় প্রবেশ করেছিলেন ওই পাঁচ ব্যক্তি। কিন্তু ভারী বৃষ্টির কারণে গুহার ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় তারা আটকা পড়েন। পরে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল তাদের সন্ধান পায় এবং উদ্ধার অভিযানে নামে।
উদ্ধার পাওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা থাও ওউন তার নিখোঁজ বাবাকে জীবিত ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বাবাকে স্ট্রেচারে তোলার সময় তিনি অশ্রুসিক্ত হয়ে তাকে জড়িয়ে ধরেন।
তবে উদ্ধার অভিযান পুরোপুরি শেষ হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, আরও দুই ব্যক্তি ওই গুহা ব্যবস্থার গভীরে আটকে থাকতে পারেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের দেওয়া নতুন তথ্য ও মানচিত্রের ভিত্তিতে রোববার থেকে তাদের খোঁজে নতুন অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, সম্ভাব্য অবস্থানে পৌঁছাতে আরও প্রায় ১০০ মিটার বিপজ্জনক ও সংকীর্ণ পথ অতিক্রম করতে হবে। এরই মধ্যে নতুন করে বৃষ্টিপাত হওয়ায় গুহার পানির স্তর আবারও বেড়েছে, যা অভিযানকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া ফিনিশ ডুবুরি মিক্কো পাসি বলেন, “পানি নিষ্কাশনই ছিল সবচেয়ে নিরাপদ পরিকল্পনা। আমরা মজা করে বলেছিলাম, যদি পাম্পগুলো ভালো কাজ করে তাহলে হয়তো ডুবুরিদের আর প্রয়োজনই হবে না। শেষ পর্যন্ত সেটাই হয়েছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, লাওসের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনিয়ন্ত্রিত স্বর্ণখনি অনুসন্ধান দিন দিন বাড়ছে। দারিদ্র্য, কর্মসংস্থানের সংকট এবং স্বর্ণের উচ্চমূল্য মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ গুহা ও খনিতে প্রবেশে উৎসাহিত করছে। অতীতে এমন অবৈধ স্বর্ণ অনুসন্ধানের ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
এদিকে, লাওসের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম অবৈধ খনন কার্যক্রমের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা প্রচার করছে। ফলে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যাওয়া এই পাঁচ ব্যক্তির সামনে এখন আইনি জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
তবে আপাতত তাদের পরিবার ও স্থানীয়দের কাছে সবচেয়ে বড় খবর হলো—মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে তারা জীবনের দ্বিতীয় সুযোগ পেয়েছেন।