ছবি: সংগৃহীত
য়েক দশক ধরে ভারতের রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম চালানো মাওবাদী বিদ্রোহ এখন কার্যত শেষ অধ্যায়ে পৌঁছেছে। একসময় দেশের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচিত এই আন্দোলনের সদস্যরা এখন একে একে অস্ত্র সমর্পণ করছেন।
সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানায়, সম্প্রতি ভারতের মধ্যাঞ্চলের ঘন জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসেন মাওবাদী কমান্ডার পাপা রাও। তার কাঁধে ছিল একটি রাইফেল, আর মাথার ওপর ছিল প্রায় ২৬ হাজার মার্কিন ডলারের পুরস্কার ঘোষণা। তার পেছনে সারিবদ্ধভাবে হাঁটছিলেন আরও ১৭ জন বিদ্রোহী। কারও হাতে ছিল কয়েক দশক পুরোনো এল১এ১ ও লি-এনফিল্ড রাইফেল, কারও কাঁধে সাধারণ ব্যাকপ্যাক।
চীনের কমিউনিস্ট নেতা মাও সেতুংয়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এই বিদ্রোহীরা দীর্ঘদিন ধরে ভারতের রাষ্ট্রীয় কাঠামো উচ্ছেদের লক্ষ্যে লড়াই করে আসছিলেন। তাদের লক্ষ্য ছিল শ্রেণিহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা। তবে এই সশস্ত্র সংঘাতে গত কয়েক দশকে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
প্রায় দুই দশক আগে ভারতের তৎকালীন নেতৃত্ব মাওবাদীদের দেশের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছিল। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে মাওবাদীদের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে সংগঠনের সাধারণ সদস্যরাও অস্ত্র ছেড়ে আত্মসমর্পণ করছেন।
আত্মসমর্পণের কয়েক ঘণ্টা পর পাপা রাও ও তার সহযোগীদের একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে মঞ্চে তোলা হয়। সেখানে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে তাদের ‘মূলধারায় প্রত্যাবর্তন’ ঘোষণা করা হয়। তাদের জমা দেওয়া পুরোনো অস্ত্রগুলো প্রদর্শন করা হয়, যেন ইতিহাসের কোনো নিদর্শন।
অনুষ্ঠানে প্রত্যেক সাবেক বিদ্রোহীর হাতে একটি গোলাপ ফুল এবং ভারতের সংবিধানের একটি কপি তুলে দেওয়া হয়। এটিকে নতুন আনুগত্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরে তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ছবি তোলেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রীয় পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হন।
ভারত সরকার দাবি করছে, চলতি বছরের মধ্যেই দেশ থেকে মাওবাদী আন্দোলন পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হবে। দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের ফলে বিদ্রোহীরা ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একসময় বিশ্বজুড়ে বিপ্লবী রাজনীতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত মাওবাদী আন্দোলনের ভারতীয় অধ্যায় এখন শেষের পথে। অস্ত্রধারী বিদ্রোহীদের আত্মসমর্পণ সেই বাস্তবতারই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।