ছবি: ইমজা নিউজ
সিলেট: সিলেটে মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে ত্বরিত ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে নগরীর শিবগঞ্জ সেনপাড়া এলাকায় মুদি দোকান রাণী স্টোরে মব তৈরি করে বৃদ্ধ ব্যবসায়িকে মারধর ও দোকানে লুটপাট চালায় সংঘবদ্ধ কিছু লোক। গুরুতর আহত দোকান মালিক খগেন্দ্র চন্দ্র দাসকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ । এ ঘটনায় মামলা করেছেন আহত ব্যবসায়ীর ছেলে রুবেল দাস। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ এরই মধ্যে তাদের পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত শুক্রবার রাত প্রায় ৮টার দিকে শিবগঞ্জ সেনপাড়া এলাকার মুদি দোকান ‘রাণী স্টোর’ থেকে কোমল পানীয় কিনে নিয়ে যায় আট বছর বয়সী এক শিশু। সে সময় দোকানে ক্রেতাদের ভিড় থাকায় শিশুটিকে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। পরে পণ্য কিনে শিশুটি চলে যায়।
কিছুক্ষণ পর শিশুটির মা দোকানে এসে কেন দেরি হয়েছে তা জানতে চান। কথোপকথনের এক পর্যায়ে তিনি অভিযোগ তোলেন, দোকানদার শিশুটির শরীরে স্পর্শ করেছেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করেই আশপাশের সংঘবদ্ধ কয়েকজন লোক দোকানে জড়ো হয়। একপর্যায়ে তারা দোকান মালিক খগেন্দ্র চন্দ্র দাসের ওপর হামলা চালায়। লাথি-ঘুষি ও এলোপাতাড়ি মারধরে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে খবর পেয়ে পুলিশ রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
ঘটনার পরপরই পুলিশ দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে। ফুটেজ পর্যালোচনা এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই করে অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ মনজুরুল আলম বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, অভিযোগে উল্লিখিত শ্লীলতাহানির কোনো ঘটনা ঘটেনি। যাচাই-বাছাই ছাড়াই গুজব ও সন্দেহের ভিত্তিতে এক বৃদ্ধ ব্যবসায়ীকে মারধর করা হয়েছে। এটি মব জাস্টিসের একটি স্পষ্ট ঘটনা।”
তিনি বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন সেনপাড়ার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম মিন্টুর স্ত্রী মোছাম্মৎ শিল্পী বেগম (৪২), ওহিদুল আলমের ছেলে আহম্মদ হোসেন আরিফ (২৪), মো. রফিকুল ইসলাম মিন্টুর ছেলে আকাশ আহমেদ (২০), মেয়ে মোছাম্মৎ রোজী আক্তার (২০), মেয়ে রোকেয়া আক্তার (২২), মো. রফিকুল ইসলাম মিন্টু (৫০), বিল্লাল মিয়ার ছেলে শোয়েব (৩০), শিবগঞ্জ খড়াদিপাড়ার মখর মোল্লা লাক্কুর ছেলে নাদিম আহমদ (২৭), ইমন (২৬), সেনপাড়ার কামাল (২৬), সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দ আবু বক্কর (২৭), দেলোয়ার (৩৫), অন্তর (২৬)সহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন।
এদিকে, নিরীহ এক ব্যবসায়ীর ওপর মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে সংঘটিত এ হামলার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া গুজবের কারণে এমন ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। কোনো অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।
এঘটনায় মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ হিন্দু বৌদ্ধা কল্যাণ ঐক্য ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ আহত ব্যবসায়ীর পরিবারকে শান্তনা দিয়ে তাদের পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।
আহত খগেন্দ্র চন্দ্র দাস ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন চিকিৎসকরা।