ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় জনমত জরিপে প্রথমবারের মতো ক্ষমতাসীন লেবার পার্টিকে ছাড়িয়ে গেছে কট্টর ডানপন্থী জনতাবাদী দল ওয়ান নেশন। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অভিবাসনবিরোধী মনোভাবকে পুঁজি করে দলটি ভোটারদের মধ্যে সমর্থন বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।
রেডব্রিজ গ্রুপ ও অ্যাকসেন্ট রিসার্চের যৌথভাবে পরিচালিত সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ওয়ান নেশনের প্রাথমিক ভোটসমর্থন এক মাসের ব্যবধানে ৪ শতাংশ পয়েন্ট বেড়ে ৩১ শতাংশে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন মধ্য-বামপন্থী লেবার পার্টির সমর্থন ৩ শতাংশ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২৮ শতাংশে।
প্রধান বিরোধী রক্ষণশীল জোটের জনপ্রিয়তাও কমেছে। তাদের সমর্থন ২ শতাংশ পয়েন্ট হ্রাস পেয়ে ২০ শতাংশে নেমে এসেছে।
গত ১২ মে অস্ট্রেলিয়া সরকার কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সম্পত্তি কর সংস্কারের প্রস্তাবসহ নতুন বাজেট ঘোষণা করে। প্রজন্মগত বৈষম্য কমানোর লক্ষ্যে নেওয়া এই উদ্যোগ ভোটারদের বড় অংশকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি বলেই জরিপের ফলাফলে প্রতীয়মান হয়েছে।
বিশেষ করে জেনারেশন এক্স ও বেবি বুমার প্রজন্মের ভোটারদের মধ্যে বাজেটের পদক্ষেপগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে অজনপ্রিয় ছিল। তবে যেসব তরুণ প্রজন্মকে লক্ষ্য করে এসব সংস্কার আনা হয়েছিল, তাদের মধ্যেও প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি।
জরিপ অনুযায়ী, মিলেনিয়াল ভোটারদের মাত্র ২৬ শতাংশ এবং জেন-জেড ভোটারদের মাত্র ১৩ শতাংশ মনে করেন, নতুন বাজেট তাদের জন্য ইতিবাচক প্রভাব বয়ে আনবে।
তবে অস্ট্রেলিয়ার পছন্দক্রমভিত্তিক ভোটব্যবস্থা অনুযায়ী ভোটারদের দ্বিতীয় পছন্দের ভোট যুক্ত করলে লেবার পার্টি এখনও সামান্য এগিয়ে রয়েছে। দুই-দলভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী লেবারের সমর্থন ৫১ শতাংশ, যেখানে ওয়ান নেশনের সমর্থন ৪৯ শতাংশ।
১ হাজার ৫ জন ভোটারের ওপর পরিচালিত এই জরিপটি ২৫ থেকে ২৮ মে পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। এর ত্রুটির সীমা ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।
১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে পলিন হ্যানসনের নেতৃত্বাধীন ওয়ান নেশন অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় রাজনীতিতে তুলনামূলকভাবে প্রান্তিক অবস্থানে ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনৈতিক চাপ এবং অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগকে সামনে এনে দলটি নতুন করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
সর্বশেষ জরিপের ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে ওয়ান নেশন এখন আর প্রান্তিক শক্তি নয়; বরং দেশটির মূলধারার রাজনীতিতে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।