ছবি: সংগৃহীত
‘একটা ছবি, একটাই হৃদয়, অনেকগুলো স্বপ্ন। গর্ব নিয়ে এবার সীমান্ত অতিক্রম করার পালা। চলো একসঙ্গে যাই’- এমন আবেগঘন বার্তা দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয়েছে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল।
নেইমার, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রসহ সেলেসাও তারকাদের বহনকারী বিমানের সামনে তোলা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। বিশ্বকাপের পথে যাত্রার আগে সেই পোস্ট ইতোমধ্যে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল সর্বশেষ বিশ্বকাপ জিতেছিল ২০০২ সালে। এরপর কেটে গেছে প্রায় দুই যুগ। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে এবার ‘হেক্সা অভিযান’ শুরু করেছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।
যাত্রার আগে ব্রাজিল দলকে বহনকারী বিমানকে বিশেষভাবে ‘পবিত্র’ করার আয়োজন করা হয়। রিও ডি জেনিরোর গালেয়াও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাখা আজুল এয়ারলাইনসের চার্টার্ড বিমানটিকে দুই পাশ থেকে বিশাল জলকামানের মাধ্যমে পানি ছিটিয়ে শুভযাত্রার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।
বিমান চলাচলের পরিভাষায় এ আয়োজনকে বলা হয় ‘ওয়াটার ক্যানন স্যালুট’। খ্রিস্টান ঐতিহ্যে এটি ‘ব্যাপ্টিজম’ বা অপ্সুদীক্ষার প্রতীক হিসেবেও পরিচিত, যা নতুন যাত্রা বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো অভিযানের আগে শুভকামনার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
পরে বিমানটিকে ব্রাজিলের জাতীয় পতাকার আদলে সাজানো হয়। বাংলাদেশ সময় আজ সকাল ৭টায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে দলটি। প্রায় ১০ ঘণ্টার ভ্রমণ শেষে তারা গন্তব্যে পৌঁছায়।
ব্রাজিল দল যে সুপার ভিআইপি চার্টার্ড বিমানে ভ্রমণ করেছে, সেটি বোয়িং ৭৬৭-৩০০ইআর মডেলের। বিমানটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা। এতে রয়েছে ৯৬টি সম্পূর্ণ শুয়ে বিশ্রাম নেওয়ার সুবিধাসম্পন্ন আসন।
দীর্ঘ ভ্রমণে খেলোয়াড়দের ক্লান্তি কমাতে এবং সর্বোচ্চ আরাম নিশ্চিত করতে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও বিলাসবহুল এই বিমান ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয় সিবিএফ।
যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে নিউ জার্সির কলাম্বিয়া পার্ক ট্রেনিং ফ্যাসিলিটিতে বিশ্বকাপ ক্যাম্প শুরু করবে ব্রাজিল দল। সেখান থেকেই ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নপূরণের প্রস্তুতি নেবেন নেইমার-ভিনিসিয়ুসরা।