ছবি: সংগৃহীত
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক অবৈধভাবে বাংলাদেশে লোকজন প্রবেশ করানোর অন্তত ১০টি অপচেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সঙ্গে সম্ভাব্য পুশইন ঠেকাতে সীমান্তজুড়ে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঝিনাইদহের যাদবপুর সীমান্তে কয়েকজন ব্যক্তি অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি টহলদল দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা আবার ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
একই সময়ে মহেশপুর সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের একটি প্রিজন ভ্যানে করে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জনকে সীমান্ত গেট দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। তবে বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ ওই ব্যক্তিদের পুনরায় ভ্যানে তুলে অন্যত্র সরিয়ে নেয়।
যশোরের গোগা ও রুদ্রপুর সীমান্তেও কয়েকজন নারী-পুরুষকে পুশইনের উদ্দেশ্যে সীমান্তের কাছে অবস্থান করতে দেখা যায়। বিজিবির সক্রিয় তৎপরতার কারণে বিএসএফ তাদের সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
জয়পুরহাটের কয়া ও বাসুদেবপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের ভেতরে প্রায় ১০ জনকে একত্রিত করে পুশইনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল বলে তথ্য পায় বিজিবি। পরে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি ও সতর্কতামূলক প্রস্তুতির কারণে সেই উদ্যোগ ব্যর্থ হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের বিপরীতে কয়েকটি হোল্ডিং সেন্টারে চারজন মুসলিম নাগরিককে বাংলাদেশে পাঠানোর উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় বিজিবি ওই এলাকায় কঠোর নজরদারি বজায় রেখেছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তে বিএসএফ দুই বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে নিজেদের হেফাজতে রেখেছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিএসএফের পক্ষ থেকে বিজিবির সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করা হয়নি।
পঞ্চগড়ের রওশনপুর সীমান্তে একজন ব্যক্তিকে পুশইন করা হলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। পরে যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ সীমান্তের বিপরীতে ভারতের মালদা জেলার একটি হোল্ডিং সেন্টারে আটক ২২ জনকে পুশইনের জন্য বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে তথ্য পেয়েছে বিজিবি। এ কারণে ওই এলাকায় বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
সিলেটের উৎমাছড়া সীমান্তে স্থানীয়দের হাতে আটক দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। যাচাই শেষে তাদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করা হলে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়।
এ ছাড়া নেত্রকোনার কচুগড়া সীমান্তের বিপরীতে ভারতের আসাম রাজ্যে ১৫ থেকে ২০ জনকে একত্রিত করে রাখা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। সীমান্তের একটি অংশে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় ওই এলাকা দিয়ে পুশইনের আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সেখানে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নীতিমালা এবং দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার পরিপন্থী কোনো পুশইন বা পুশব্যাক কার্যক্রম মেনে নেওয়া হবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত এবং যেকোনো অবৈধ অনুপ্রবেশ কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।