প্রকাশিত : ০৫ জুন, ২০২৬ ১২:৩৫ (শনিবার)
পুতিনকে সরাসরি বৈঠকের আহ্বান জেলেনস্কির, যুদ্ধ বন্ধে নতুন উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে মুখোমুখি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এক খোলা চিঠিতে তিনি পুতিনকে সরাসরি আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেন এবং বলেন, ইউরোপের এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ বন্ধের একমাত্র পথ হলো দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি সংলাপ।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই চিঠিতে জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরান সংকট নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ইউক্রেন যুদ্ধকে আবার ওয়াশিংটনের প্রধান অগ্রাধিকারে পরিণত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করা ঠিক হবে না। বরং এখনই শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

চিঠিতে তিনি যুদ্ধবিরতিরও প্রস্তাব দেন। আলোচনার পুরো সময়জুড়ে পূর্ণাঙ্গ অস্ত্রবিরতি কার্যকর করার আহ্বান জানিয়ে জেলেনস্কি বলেন, এতে উভয় পক্ষের মধ্যে আস্থা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে একই দিনে পুতিন যুদ্ধবিরতির এই প্রস্তাব নাকচ করে দেন।

জেলেনস্কির চিঠির ভাষা ছিল দৃঢ় ও কিছুটা ব্যঙ্গাত্মক। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ ২৬ বছর ক্ষমতায় থাকার কারণে পুতিনের বয়স ও সময়ের চাপ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার অভ্যন্তরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।

চিঠিতে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট লেখেন, “ইউক্রেন এই যুদ্ধ শেষ করতে আপনার এবং আমার সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দিচ্ছে। আমি একটি বৈঠকের আহ্বান জানাচ্ছি।”

তিনি জানান, সম্ভাব্য বৈঠক সুইজারল্যান্ড বা তুরস্কের মতো কোনো নিরপেক্ষ দেশে আয়োজন করা যেতে পারে।

এদিকে ক্রেমলিন নিশ্চিত করেছে যে তারা জেলেনস্কির চিঠি পেয়েছে এবং পুতিনকে এর বিষয়ে অবহিত করা হবে। তবে রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র জানিয়েছেন, পুতিন এখনো চিঠির পুরো বিষয়বস্তু বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করার সুযোগ পাননি।

সেন্ট পিটার্সবার্গে এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন বলেন, তিনি ইউক্রেনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত। তবে তার মতে, যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে ইউক্রেনকেও আপস করতে হবে। তিনি আবারও দাবি করেন, ইউক্রেনকে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা চারটি অঞ্চল—দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া—নিয়ে বাস্তবতা মেনে নিতে হবে।

অন্যদিকে ইউক্রেন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনো ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে রাজি নয়। কিয়েভের মতে, এমন সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে রাশিয়াকে আরও আগ্রাসী পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করবে।

জেলেনস্কি তার চিঠিতে আরও বলেন, ইউক্রেনীয়দের মতো রাশিয়ার সাধারণ মানুষও যুদ্ধের ক্লান্তি অনুভব করছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, জ্বালানি সংকট এবং মূল্যস্ফীতির কারণে রুশ জনগণের ওপরও চাপ বাড়ছে।

তিনি পুতিনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ বেছে নিতে ভয় পাবেন না। এখন সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বিষয় সেটিই।”

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জেলেনস্কির এই উদ্যোগকে ‘গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থবহ শান্তি প্রস্তাব’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে শান্তির পথে এগিয়ে যাওয়ার।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও দুই নেতার সম্ভাব্য বৈঠককে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “তারা যদি মুখোমুখি বসেন, তাহলে সেটি দারুণ হবে। তাদের দেখা করা উচিত এবং এই সংকটের সমাধান করা উচিত।”

তবে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ থাকলেও বাস্তবতা এখনো কঠিন। কয়েক দফা আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান বের হয়নি। ফলে জেলেনস্কির এই নতুন আহ্বান যুদ্ধবিরতির পথে অগ্রগতির সুযোগ তৈরি করতে পারে কি না, সেটাই এখন আন্তর্জাতিক মহলের প্রধান আলোচনার বিষয়।